পকেটে টান অথচ ক্রেডিট স্কোর তলানিতে? এই ৫ জাদুকরী উপায়ে রাতারাতি বাড়িয়ে নিন আপনার সিবিল স্কোর!

কম ক্রেডিট স্কোর বা খারাপ সিবিল (CIBIL Score) থাকলে ব্যাংক থেকে লোন কিংবা ক্রেডিট কার্ড পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। বারবার আবেদন করেও লোন রিজেক্ট হওয়া কিংবা চড়া সুদে ঋণ পাওয়ার মতো ঝামেলার মুখোমুখি হতে হয় অনেককে। মূলত অনিয়মিত ইএমআই পেমেন্ট বা ক্রেডিট কার্ডের যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলেই এই স্কোর নেমে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুট করে নতুন লোন নেওয়ার চেষ্টা না করে, বরং স্কোর হ্রাসের আসল কারণ খুঁজে নিজের অভ্যাসে বদল আনা জরুরি।
ক্রেডিট স্কোর উন্নত করার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো সময়মতো সমস্ত বিল ও ইএমআই মিটিয়ে দেওয়া। আপনার পরিশোধের ইতিহাস (Repayment History) এবং ক্রেডিট ইউটিলাইজেশন রেশিও স্কোর গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। বিল দিতে দেরি হলে তা সরাসরি ক্রেডিট ব্যুরোর কাছে পৌঁছে যায় এবং স্কোর ধাক্কা খায়। এই সমস্যা এড়াতে আপনি রিমাইন্ডার সেট করতে পারেন কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অটো-ডেবিট অপশন চালু করে রাখতে পারেন।
অনেকেরই ধারণা, ক্রেডিট কার্ডের ন্যূনতম বা মিনিমাম অ্যামাউন্ট দিলেই দায়িত্ব শেষ। কিন্তু এই ভুল ধারণা ডেকে আনে বড় বিপদ। মিনিমাম ডিউ দিলে লেট ফি বাঁচলেও বাকি পরিমাণের ওপর ব্যাংক চড়া হারে সুদ চাপায়। তাই নির্ধারিত তারিখ বা ডিউ ডেটের আগেই সম্পূর্ণ বিল পেমেন্ট করার অভ্যাস করুন। পাশাপাশি, কার্ডের লিমিটের কতটা অংশ ব্যবহার করছেন (Credit Utilization) তাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধরুন আপনার কার্ডের লিমিট ১ লাখ টাকা, আর আপনি খরচ করলেন ৭০ হাজার, তবে আপনার ইউটিলাইজেশন দাঁড়াল ৭০ শতাংশ। ব্যাংকগুলো উচ্চ ইউটিলাইজেশনকে আর্থিক নির্ভরতার লক্ষণ হিসেবে দেখে। তাই খরচের মাত্রা সবসময় সীমার মধ্যে রাখা বাঞ্ছনীয়।
আপনার যদি কোনও পুরনো লোন বা ধার বাকি থাকে, তবে সবার আগে তা মিটিয়ে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ। ধার ফেলে রাখলে সুদ ও পেনাল্টির বোঝা কেবল বাড়তেই থাকে। পেমেন্ট করার পর রসিদটি সংরক্ষণ করুন এবং কিছুদিন পর ক্রেডিট রিপোর্টে তা আপডেট হয়েছে কি না তা যাচাই করে নিন। এছাড়া, বছরে অন্তত চারবার বিভিন্ন ক্রেডিট ব্যুরো থেকে বিনামূল্যে ক্রেডিট রিপোর্ট পাওয়ার সুযোগ থাকে, যেখানে কোনো ভুলত্রুটি আছে কি না তা সহজেই মিলিয়ে নেওয়া যায়।
লোন বা ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন। এক জায়গায় লোন রিজেক্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে অন্য ব্যাংকে আবেদন করা থেকে বিরত থাকুন। স্বল্প সময়ে একাধিক জায়গায় লোন আবেদন করলে ব্যাংকিং সিস্টেমে ‘হার্ড এনকোয়ারি’ হয়, যা ক্রেডিট প্রোফাইলকে আরও দুর্বল করে দেয়। একই সঙ্গে, পুরনো ক্রেডিট কার্ড হুট করে বন্ধ করা উচিত নয়, কারণ পুরনো কার্ড আপনার স্বচ্ছ পেমেন্ট হিস্ট্রি বহন করে। তবে বার্ষিক ফি খুব বেশি হলে তবেই তা বাতিলের কথা ভাবুন।