“বানান ভুল থেকে পদবি পরিবর্তন”—আধারে নাম আপডেট করার নতুন ৫টি নিয়ম জেনেনিন

আধার কার্ড সংক্রান্ত নিয়মে বড়সড় পরিবর্তন আনল ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI)। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (SOP)-এ পুরোনো নিয়মগুলিকে সংশোধন করে নাম পরিবর্তন ও আপডেট করার প্রক্রিয়াটিকে আরও সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নাম পরিবর্তনের নতুন নিয়মগুলি চালু করেছে কর্তৃপক্ষ।
আইডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছোটখাটো সংশোধন, ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের ভুল, বিবাহ বা বিবাহবিচ্ছেদের পর পদবি পরিবর্তন কিংবা সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এখন থেকে আলাদা আলাদা নথিপত্রের প্রয়োজন হবে। সমস্ত নথি, হলফনামা এবং গেজেট নোটিফিকেশন পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাইয়ের পরেই আধার আপডেটের আবেদন মঞ্জুর করা হবে।
আধার কার্ডের নাম বদলের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম:
১. ছোটখাটো বানান বা নামের সংশোধন: ব্যক্তির মূল পরিচয়ে কোনো পরিবর্তন না করে যদি কেবল বানানের সামান্য ভুল সংশোধন, আদ্যক্ষর সম্পূর্ণ করা বা মধ্যনাম/পদবি যোগ বা বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয়, তবে তাকে সামান্য নাম পরিবর্তন হিসেবে ধরা হবে। এই ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র (PoI) জমা দিতে হবে। এছাড়া ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে পরিবারের প্রধানের সম্পর্কের প্রমাণপত্র লাগবে। যেমন— ‘রাম’-কে ‘রামা’ বা সামান্য উচ্চারণগত বানান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য।
২. ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের ভুলের ক্ষেত্রে: আধার কার্ড তৈরির সময় ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের ভুলে নাম ভুল হয়ে থাকলে তার প্রক্রিয়া আলাদা। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে পরিচয়পত্র বা বাসস্থানের প্রমাণের (PoI/PoR) সঙ্গে একটি ‘Annexure B’ হলফনামা জমা দিতে হবে। আবেদনকারী নাবালক হলে বাবা-মা বা অভিভাবককে ‘Annexure C’ হলফনামা জমা দিতে হবে।
৩. বিবাহ বা বিবাহবিচ্ছেদের পর পদবি পরিবর্তন: মহিলারা বিবাহ বা বিবাহবিচ্ছেদের জেরে পদবি পরিবর্তন করতে চাইলে তাঁদের একটি নির্দিষ্ট হলফনামা এবং পরিচয়পত্র (PoI) জমা দিতে হবে। এই হলফনামার মাধ্যমে প্রমাণিত হবে যে পদবি বদলের ফলে ওই ব্যক্তির মূল পরিচয়ে কোনো পরিবর্তন ঘটছে না।
৪. কোনো নথিপত্র ছাড়াই সংশোধন: UIDAI স্পষ্ট জানিয়েছে, নামের ভুল ক্যাপিটালাইজেশন বা বড় হাতের-ছোট হাতের অক্ষরের ভুল সংশোধনের জন্য কোনো বাড়তি নথিপত্রের প্রয়োজন নেই। যেমন— ‘RaMesh’-কে ‘Ramesh’-এ পরিবর্তন করতে কোনো ডকুমেন্টস লাগবে না।
৫. কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া: নাম পরিবর্তনের প্রতিটি আবেদনের ক্ষেত্রে জমা দেওয়া নথি, হলফনামা এবং গেজেট নোটিফিকেশন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে খতিয়ে দেখবে UIDAI, যাতে জালিয়াতি রোধ করা সম্ভব হয়।