অসম থেকে হিমাচল! পরপর দুই দিনে জোড়া ভূমিকম্পে কাঁপল দেশ, কতটা বিপদের ঝুঁকি?

গত দু’দিনের ব্যবধানে দেশের দুই প্রান্তে জোড়া ভূমিকম্পের জেরে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে পাহাড়ি ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে। মঙ্গলবার ভোরে ৪.৫ মাত্রার মাঝারি তীব্রতার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে অসমের নগাঁও জেলা। এর ঠিক আগের রাতেই হিমাচল প্রদেশের উনা জেলায় অনুভূত হয় আরেকটি কম্পন। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS)-র তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর ৪টা ২৩ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডে নগাঁওয়ে যে ভূকম্পন অনুভূত হয়, তার তীব্রতা রিখটার স্কেলে ছিল ৪.৫। এর উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৩ কিলোমিটার গভীরে, যার এপিসেন্টার ছিল ২৬.৪২৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯৩.০৬০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। ভোরের দিকে এই হঠাৎ কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। তবে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, অসমের এই ঘটনার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে, গত ৫ অক্টোবর রাতে কেঁপে ওঠে হিমাচল প্রদেশের মাটি। ওই দিন রাত ১১টা ৪৮ মিনিট ৩৫ সেকেন্ড নাগাদ ২.৫ মাত্রার একটি মৃদু কম্পন অনুভূত হয় উনা জেলায়। এর উৎসস্থল ছিল মাটির মাত্র ৯ কিলোমিটার গভীরে এবং এপিসেন্টার ছিল ৩১.৬১৮ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ ও ৭৬.৩০১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। মাত্রা কম হওয়ার কারণে হিমাচলের এই কম্পনেও কোনও সম্পত্তির ক্ষতি বা হতাহতের খবর মেলেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের দুই প্রান্তের এই দুটি ভূমিকম্পের মধ্যে সরাসরি কোনও যোগসূত্র না থাকলেও, বারবার এমন কম্পন এবং সাম্প্রতিক সময়ে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। পাহাড়ি এলাকায় ছোট বা মাঝারি মাত্রার প্রতিটি কম্পনই নতুন করে বড় বিপদের আশঙ্কা তৈরি করে। বর্তমানে নগাঁও ও উনা—উভয় অঞ্চলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে এবং পরবর্তী কোনো আফটারশক বা কম্পন এড়াতে বিশেষ নজরদারি চালাচ্ছে প্রশাসন।