“পুলিশের এত কিসের ভয়?” সাকেত থানায় মহিলা সাংবাদিক নিগ্রহ কাণ্ডে সরাসরি অমিত শাহকে নিশানা রাহুলের!

রাজধানীতে মহিলাদের সুরক্ষা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলল বড়সড় বিতর্ক। সাকেত থানা চত্বরে দুই মহিলা সাংবাদিককে আটক, বেধড়ক মারধর ও চরম হেনস্থার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নিশানা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। গত মাসে ঘটে যাওয়া এই অন্যায়ের তীব্র নিন্দা করে তিনি অবিলম্বে সাকেত থানার সম্পূর্ণ সিসিটিভি ফুটেজ জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
ঠিক কী ঘটেছিল সাকেত থানায়?
ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ‘৪পিএম নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর দুই মহিলা সাংবাদিক শাহীন খান এবং নাফিসা খান অভিযোগ করেছেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর একটি কর্মসূচির সময় হাসপাতালের বাইরে থেকে তাঁদের টেনেহিঁচড়ে সাকেত থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তথাকথিত “সাইকেল দুর্নীতি” নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করতেই তাঁদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। যদিও দিল্লি পুলিশ এই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
ঘটনার প্রতিবাদে সোশাল মিডিয়ায় মুখ খুলে রাহুল গান্ধী লেখেন, “বর্তমানে দিল্লিতে যা ঘটছে তা একটি নির্দিষ্ট ছকের অংশ। যে মহিলাই সাহস দেখিয়ে প্রশ্ন তুলবেন, তাঁকেই চুপ করিয়ে দাও।”
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভ ও নতুন বিতর্ক
রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন গত ৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরের কাছে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলা বিক্ষোভে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে আরও তিন মহিলা সাংবাদিক পুলিশের হাতে শ্লীলতাহানি ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে পৃথক অভিযোগ উঠেছে।
রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, ওই বিক্ষোভের সময় শত শত মানুষকে আটক করা হয় এবং বহু মহিলা আন্দোলনকারী পুরুষ পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের অভিযোগ তোলেন। এমনকি মহিলা সাংবাদিকদের কাছ থেকে ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো এফআইআর (FIR) রুজু করা হয়নি।
শাহীন ও নাফিসার ওপর অত্যাচারের একটি ভিডিও শেয়ার করে রাহুল গান্ধী বলেন, “ভেবে দেখুন, থানার ভেতরে! যেখানে মহিলারা অভিযোগ জানাতে যান, সেখানেই এই ঘটনা ঘটেছে। যাদের ওপর মহিলাদের সুরক্ষার দায়িত্ব, তারাই এখন ভয়ের কারণ হয়ে উঠেছে।” দিল্লি পুলিশের এই ভূমিকা নিয়ে বর্তমানে রাজধানীজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।