খোদ মোদীজির ভরসার স্কিম! মাত্র ১০০০ টাকা জমিয়ে নিরাপদ উপায়ে রিটার্ন পাওয়ার দারুণ সুযোগ, জানুন বিস্তারিত!

পোস্ট অফিসের ছোট সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে সাধারণ মানুষের সবসময়ই আলাদা আস্থা থাকে। কিন্তু খোদ দেশের প্রধানমন্ত্রী কোন স্কিমে টাকা রাখেন, তা নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই। লোকসভা নির্বাচনের হলফনামা থেকে জানা গিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট বা এনএসসি-তে (NSC) ৯ লক্ষ টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছেন। সরকারি এই সেভিংস স্কিমে ঠিক কী বিশেষত্ব রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ কীভাবে এতে লাভবান হতে পারেন, তা নিয়ে চলছে জোর চর্চা।
ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট কী?
পোস্ট অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট হলো একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্প। এই স্কিমে মাত্র ১,০০০ টাকা থেকেই বিনিয়োগ শুরু করা সম্ভব। এরপর ১০০ টাকার গুণিতকে ইচ্ছামতো টাকা জমা রাখা যায়। এই প্রকল্পের মেয়াদ ৫ বছর। অর্থাৎ, বিনিয়োগ করা অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ রাখতে ৫ বছর পর্যন্ত লকিং পিরিয়ড মানতে হয়। যাঁরা দীর্ঘমেয়াদে কোনো রকম ঝুঁকি ছাড়া নিশ্চিত ও নিরাপদ রিটার্ন চান, তাঁদের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ।
বর্তমান সুদের হার ও রিটার্ন কত?
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) এনএসসি-তে বার্ষিক ৭.৭% হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকার প্রতি তিন মাস অন্তর এই ধরনের স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির সুদের হার পর্যালোচনা করে ঘোষণা করে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, এই সুদের হারে ১,০০০ টাকা বিনিয়োগ করলে ৫ বছর পর প্রায় ১,৪০২ টাকা ফেরত পাওয়া যায়। স্বাভাবিকভাবেই বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে রিটার্নও সেই অনুপাতে বহুগুণ বেড়ে যাবে।
ট্যাক্স ছাড়ের সুবিধা এবং অন্যান্য নিয়ম
কর ছাড়: আয়কর আইনের ৮০সি (80C) ধারার আওতায় এনএসসি-তে বিনিয়োগ করলে ট্যাক্স ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়। তবে কোন আয়কর কাঠামো বেছে নেওয়া হচ্ছে, তার ওপর এই ছাড় অনেকটাই নির্ভর করে। বিশেষ করে পুরনো আয়কর কাঠামোতে এই সুবিধা পাওয়া যায়।
টাকা তোলার নিয়ম: এটি ৫ বছরের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের স্কিম হওয়ায় মাঝপথে চাইলেই পুরো টাকা তুলে নেওয়া যায় না। তাই বিনিয়োগ করার আগে ভবিষ্যতের আর্থিক প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রাখা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী এই স্কিমে টাকা রেখেছেন বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তুঙ্গে। তবে কারও দেখাদেখি অন্ধের মতো বিনিয়োগ না করে স্কিমের মেয়াদ, সুদের হার এবং নিজের আর্থিক লক্ষ্য বিচার করেই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।