আত্মঘাতী পাইলটের হাত থেকে ১৭৪ যাত্রীর জীবন রক্ষা! বীর ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারকে কোটির পর কোটি টাকার পুরস্কার

সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাই দুবাইয়ের (FZ1073) বোয়িং বিমানে এক ভয়াবহ নাশকতার ছক বানচাল করে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন বাঁচিয়ে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার। ফ্লাইটের ককপিটে সহ-পাইলটের আত্মঘাতী হওয়ার চক্রান্ত এবং হাইজ্যাকের মতো জরুরি পরিস্থিতি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য তাঁর ওপর এখন পুরস্কারের বৃষ্টি হচ্ছে। ম্যানকাইন্ড ফার্মার পক্ষ থেকে তাঁকে ১ কোটি টাকা (প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) আর্থিক সম্মান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, গুজরাত সরকার ‘বিশিষ্ট গুজরাত গরিমা অ্যাওয়ার্ড’ হিসেবে ২৫ লক্ষ টাকা এবং রাজ্যসভার সংসদ তথা সান ফাউন্ডেশনের বিক্রমজিৎ সিং সাহানি আরও ২৫ লক্ষ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা করেছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল যখন ফ্লাই দুবাইয়ের ওই বিমানে সওয়ার প্রায় ১৮০ জন যাত্রীর মধ্যে এক পাইলট যাত্রীসমেত বিমান নিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার পরিকল্পনা করে। ককপিট থেকে পরপর দু’বার জরুরি সংকেত ও হাইজ্যাকের বার্তা পৌঁছতেই এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলে শোরগোল পড়ে যায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছার বাধা দিতে গেলে অভিযুক্ত পাইলটের সঙ্গে তাঁর ককপিটেই মারাত্মক ধস্তাধস্তি ও মারামারি শুরু হয়। সেই সময় অভিযুক্তের ধারালো অস্ত্রের কোপে জখম হন স্মিত, তবুও তিনি এক মুহূর্তের জন্যও হাল ছাড়েননি। তাঁর এই মরিয়া লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ককপিটের দরজা খুলে যায় এবং বিমানে থাকা অন্য দুই যাত্রী, যাঁরা পেশায় পাইলট ছিলেন, তাঁরা দৌড়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিমানটিকে নিরাপদে মাটিতে নামাতে সক্ষম হন।

এই চরম সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন। এদিকে, ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান পাইলটস (FIP) এবং একাধিক বিশিষ্ট জনপ্রতিনিধি প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মিত মচ্ছারকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বীরত্বের সম্মান ‘অশোক চক্র’ বা ‘ন্যাশনাল ব্রేవারি অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। রক্তস্নাত সেই ককপিটের ভয়াবহতা কাটিয়ে বর্তমানে সুস্থ হয়ে ওঠার পথে থাকা ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার তাঁর এই বীরত্বের মধ্য দিয়ে গোটা বিশ্বের কাছে এক অদম্য সাহসিকতার অনন্য নজির স্থাপন করলেন।