পুজোর আগেই ফের বড় বিপাকে কালীঘাট তৃণমূল! অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হওয়ার আশঙ্কায় ঘুম উড়ল মমতার দলের

দুর্গাপুজোর ঠিক আগে বড় ধরণের আইনি জটিলতার মুখে পড়ল ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ বা কালীঘাট তৃণমূল শিবির। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঘাসফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছিল। এবার এই পরিস্থিতির জেরে দলীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলির বৈধতা ও টাকা তোলার অধিকার নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুললেন কলকাতা হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসার তথা প্রাক্তন বিচারপতি সুব্রত তালুকদার। তিনি জানতে চেয়েছেন, যেখানে খোদ নির্বাচন কমিশন ঘাসফুল প্রতীক ও নাম ফ্রিজ করেছে, সেখানে একটি নির্দিষ্ট অংশকে দলের তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা খরচের অনুমতি দেওয়া কতটা ন্যায়সঙ্গত? এই আইনি মারপ্যাঁচের কারণে পুজোর আগেই দলীয় অ্যাকাউন্টগুলি ফের ফ্রিজ হয়ে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ করার পাশাপাশি ১৮ সেপ্টেম্বর কালীঘাট শিবিরকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক প্রদান করে। এর আগে গত ৯ জুলাই হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ শর্তসাপেক্ষে কালীঘাট তৃণমূলকে তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল, যা পরে ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পেশাল অফিসার এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা দাবি করায় নতুন করে বিপত্তি বেঁধেছে।
এই পরিস্থিতিতে কালীঘাট তৃণমূলের আইনজীবী জরুরি ভিত্তিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, আদালতের কাছ থেকে অবিলম্বে স্পষ্ট ব্যাখ্যা না মিললে পুজোর মুখে কর্মচারীদের বেতন প্রদান সহ যাবতীয় দলীয় খরচ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই মামলার শুনানি হবে পুজোর ছুটির পরেই। হাইকোর্ট এখনই সুনির্দিষ্ট রায় না দেওয়ায় স্পেশাল অফিসার নিজের এখতিয়ার অনুযায়ী ওই অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন বন্ধ করে দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর জেরে উৎসবের প্রাক্কালে কালীঘাট শিবিরের অন্দরে চরম অস্বস্তি ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।