মোবাইল ফোনের চেয়েও ছোট ক্যামেরা! মহাকাশে ইতিহাস গড়ে তাক লাগাল উজ্জয়িনের তরুণ প্রকৌশলী

মহাকাশ প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক অবিশ্বাস্য ও ঐতিহাসিক কীর্তি স্থাপন করেছেন মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনের তরুণ প্রকৌশলী পুনীত বাদেকা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ডিপটেক স্টার্টআপ ‘ইওএন স্পেস ল্যাবস’-এর গবেষক দল মাত্র ৫০২ গ্রাম ওজনের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী মাল্টিস্পেকট্রাল ইমেজিং ক্যামেরা তৈরি করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মীরা’। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে স্পেসএক্স-এর ‘ট্রান্সপোর্টার-১৮’ মিশনের মাধ্যমে ফ্যালকন ৯ রকেটের পিঠে চড়ে এই খুদে ক্যামেরাটি সফলভাবে নিম্ন ভূ-কক্ষপথে (LEO) পাড়ি দিয়েছে। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে আগামী তিন বছর এই ক্যামেরাটি মহাকাশ থেকে নিখুঁত তথ্য ও ছবি পাঠাবে।

‘মীরা’ ক্যামেরার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ক্ষুদ্র আকৃতি এবং অবিশ্বাস্য হালকা ওজন। পুনীত বাদেকার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ক্যামেরাটি বিদেশি মহাকাশ ক্যামেরার তুলনায় প্রায় ৮ থেকে ১২ গুণ হালকা, সাধারণ টেলিস্কোপের চেয়ে ৩ থেকে ৪ গুণ ছোট এবং একটি সাধারণ মোবাইল ফোনের থেকেও আকারে ছোট। এর অপটিক্যাল স্থাপত্য একটিমাত্র কাচের টুকরোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এতে নয়টি মাল্টিস্পেকট্রাল ব্যান্ড রয়েছে, যা বর্তমানে ৯.২ মিটার গ্রাউন্ড রেজোলিউশনে ছবি তুলতে সক্ষম। তবে গবেষক দলটির পরবর্তী লক্ষ্য হলো প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করে এই রেজোলিউশনকে ৪ মিটারে নামিয়ে আনা। এই অনন্য ক্ষুদ্রাকৃতির টেলিস্কোপ-ভিত্তিক ইমেজিং সিস্টেমের জন্য ইতোমধ্যে একটি ভারতীয় পেটেন্টও অর্জন করেছে এই স্টার্টআপটি।

এই ক্যামেরার ব্যবহার কেবল ছবি তোলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সুরক্ষায় বৈপ্লবিক ভূমিকা পালন করবে। কৃষিক্ষেত্রে জমির আর্দ্রতা, ফসলের স্বাস্থ্য, কীটপতঞ্জের আক্রমণ এবং সম্ভাব্য ফলন নির্ভুলভাবে মূল্যায়ন করতে পারবে মীরা। পাশাপাশি, সীমান্ত পাহারা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সন্দেহজনক জলযান চলাচল এবং চোরাচালান রোধে এই ক্যামেরার ডেটা অত্যন্ত কার্যকর হবে। বন্যা, খরা বা দাবানলের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ পর্যবেক্ষণ এবং খনি মানচিত্রায়নেও এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। উল্লেখ্য, মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিলিয়ন টাকা বাজেটে রেকর্ড সময়ে এই ক্যামেরাটি তৈরি করা হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানী ও ভারতীয় নৌবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা কুড়ানো এই দেশীয় প্রযুক্তির প্রথম ছবি আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে পৃথিবীতে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।