ব্যবসার পথে বড় স্বস্তি! কর কাঠামো সহজ করতে আসছে ‘জিএসটি ২.০’, মিলবে গ্রেফতারির ভয় থেকে মুক্তি

দেশের কর ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পণ্য ও পরিষেবা কর বা জিএসটি (GST) কাঠামোর আমূল সংস্কারের উদ্দেশ্যে সরকার এবার ‘জিএসটি ২.০’ চালুর পথে হাঁটছে। বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ জিএসটি কাউন্সিল বৈঠকে বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রস্তাব অনুমোদিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই নতুন সংস্কারের মূল লক্ষ্য শুধু কর বিধি সহজ করা নয়, বরং বিভিন্ন কোম্পানির কাছে আটকে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকার মূলধন মুক্ত করা এবং করদাতাদের হয়রানি কমানো। সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয় হলো, জিএসটি আইনের অধীনে অহেতুক গ্রেফতারির জিগির ও ভয় দূর করতে এক সুদূরপ্রসারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার।

নতুন এই রূপরেখায় নিবন্ধন, রিটার্ন দাখিল, রিফান্ড প্রক্রিয়া, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC) এবং আইনি মামলা-মোকদ্দমা সংক্রান্ত পুরোনো ও জটিল নিয়মগুলিকে সম্পূর্ণ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রথমদিকের কঠোর বিধিনিষেধ শিথিল করে পুরো ব্যবস্থাটিকে পুরোপুরি তথ্য ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক করে তোলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, সম্পূর্ণরূপে স্বয়ংক্রিয় এবং ঝুঁকিভিত্তিক এই ব্যবস্থা ম্যানুয়াল ফাইলিং ও কাগজের কাজকে প্রতিস্থাপন করবে। এর ফলে ব্যবসা করার সহজতা বা ‘ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস’ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কাউন্সিলের আলোচ্যসূচির অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট প্রক্রিয়াকে সহজতর করা। প্রস্তাবিত নিয়মে প্ল্যান্ট, যন্ত্রপাতি এবং ইনপুট পরিষেবার ওপর প্রদত্ত কর পাঁচ বছর ধরে মাসিক কিস্তিতে ফেরত দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি ধারা ১৭(৫)-এর অধীনে এতদিন যে সমস্ত কর ছাড় স্থগিত ছিল, তা পুনরায় চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে কর্মচারীদের স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা, আউটডোর ক্যাটারিং, টেলিকম টাওয়ার, কারখানা বহির্ভূত পাইপলাইন এবং ১৩ আসন পর্যন্ত যাত্রীবাহী যানবাহন ও তার রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাবদ আটকে থাকা ক্রেডিট আনলক হবে। শিল্প মহলের মতে, এই পদক্ষেপ ভারতীয় পণ্যকে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে।

সরবরাহকারীর ভুলের খেসারত যাতে সৎ ক্রেতাদের না দিতে হয়, সেটিরও স্থায়ী সমাধান করা হয়েছে। নতুন নিয়মে কোনো লেনদেন ন্যায্য হলে ক্রেতার আইটিসি বাতিল করা হবে না, বরং সরাসরি কর ফাঁকিবাজ বিক্রেতার কাছ থেকেই টাকা আদায় করা হবে। পাশাপাশি, আইটি ও আইটিইএস (IT/ITeS) সংস্থা এবং এসইজেড (SEZ)-এর ক্ষেত্রে রফতানি সংক্রান্ত নিয়ম আরও সহজ করা হচ্ছে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য ১০,০০০ টাকার কম অঙ্কের ভুুলের ক্ষেত্রে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারিতে নিষেধাজ্ঞা এবং বার্ষিক ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত টার্নওভারের ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের ঝামেলা কমানোর বড় ঘোষণা আসতে চলেছে।