খালি বাড়িগুলোতে চুরির মহোৎসব! লখনউয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতেই বাড়ছে অপরাধের আতঙ্ক

উত্তরপ্রদেশ থেকে বর্ষা আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিলেও রাজধানী লখনউয়ের বুকে গোমতী নদীর জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। লাগাতার জলস্ফীতির জেরে ফৈজুল্লাগঞ্জসহ একাধিক জনবহুল এলাকা ইতিমধ্যেই জলের নিচে তলিয়ে গেছে। সোমবার নদীর জলস্তর সরাসরি জেহতা মল রোড পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলে জেলা প্রশাসন নতুন করে অত্যন্ত উদ্বেগজনক সতর্কতা জারি করেছে। প্রশাসনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গোমতীর জলস্তর আরও দুই ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে।
এই সম্ভাব্য চরম পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসন জলমগ্ন এলাকাগুলির বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে। নদীর জলস্তর যদি আরও দুই ফুট বৃদ্ধি পায়, তবে তার জেরে শহরে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেহতা-মল রোড বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে গোমতী নদীর বন্যার জলে নিমজ্জিত এবং অনেক এলাকায় জলের গভীরতা দেড় থেকে দুই ফুট পর্যন্ত ছুঁয়েছে।
গোমতীর জলের আগ্রাসনে ফয়জুল্লাহগঞ্জের মামা কলোনি, দাউদ নগর, মেহেন্দি ঘাট, গুলালা ঘাট, হায়াত নগর, ঘাইলা, আলু নগর ও দুগারিয়া সহ ডজনখানেক কলোনি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। এই সমস্ত এলাকার অজস্র বাড়ি এবং মন্দিরের গর্ভগৃহে পর্যন্ত জল ঢুকে গেছে। এমনকী শহরের নবনির্মিত ‘প্রেরণা স্থল’-ও বন্যার জলে ডুবে রয়েছে। মিল্লাত নগরের মতো বহু এলাকার বাসিন্দারা গত চার দিন ধরে নিজেদের বাড়িতেই আটকে রয়েছেন। এই ভয়াবহ অবস্থার কারণে বিদ্যুৎ কর্পোরেশন বাধ্য হয়ে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলির ১২টি ট্রান্সফরমারের বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে।
জলমগ্ন এলাকা ছেড়ে মানুষ বাধ্য হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিলেও অন্য এক বড় সংকট মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ইতিমধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাঁদের বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছেন, যেখানে সামগ্রিকভাবে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মানুষ এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কিন্তু এই গণ-স্থানান্তরের সুযোগ নিয়েই ফাঁকা বাড়িগুলোতে চুরির ঘটনা লাগাতার বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাড়ি ছেড়ে মানুষ অন্যত্র যাওয়ার সুবাদে দুষ্কৃতীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং ইতিমধ্যেই প্রায় এক ডজন ভুক্তভোগী পরিবার স্থানীয় থানায় চুরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছে। প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর রয়েছে।