নিজের প্রার্থী হয়েও বিজেপিকে ভোট দেওয়ার অদ্ভুত ডাক! হুমায়ুন কবীরের দলের নেতার মন্তব্যে চরম শোরগোল

রাত পোহালেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপ-নির্বাচন। আর ঠিক তার আগের মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর মোড় সামনে এল। হুমায়ুন কবীরের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির (আজুপ) নন্দীগ্রামের প্রার্থী শহিদুল হক নিজের দলের হয়ে লড়াই না করে খোদ বিরোধী শিবির অর্থাৎ বিজেপিকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রকাশ্য আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে ঝড় উঠেছে।
শহিদুল হকের দাবি, বাংলায় আগামী ২০ বছর একচ্ছত্র রাজত্ব করবে বিজেপি। তাই তৃণমূল কংগ্রেস বা অন্যান্য দলকে ভোট দিয়ে ভোট নষ্ট না করে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের উচিত বিজেপির পক্ষ নেওয়া। তাঁর সাফ কথা, নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথকে ৫০ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরে বিজেপিকে জেতালে সকলের টনক নড়ে যাবে। সংখ্যালঘু মুসলিমদের উন্নয়নের স্বার্থে এবং দেশের স্বার্থে বিজেপির সঙ্গে যোগ দেওয়া উচিত।”
এখানেই থেমে থাকেননি ওই প্রার্থী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসন চালাতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে ল্যাজে-গোবরে অবস্থা তৈরি করেছিলেন। উল্টোদিকে, শুভেন্দু অধিকারীকে ‘দাবাং’ মুখ্যমন্ত্রী আখ্যা দিয়ে তাঁর কাজের গতি ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন শহিদুল হক। তিনি জানান, গত তিন দিন ধরে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাধারণ মানুষকে বিজেপি প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার পক্ষেই প্রচার চালিয়েছেন। তৃণমূলকে একটি ‘অত্যাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত’ দল বলে আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষের এখন উচিত উন্নয়নের স্বার্থে বিজেপির হাত শক্ত করা। নিজের দলের প্রার্থীর এহেন বিপরীতমুখী ও বিস্ফোরক অবস্থানে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব, অন্যদিকে ভোটের বাজারে এই ঘটনা এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে।