৯/১১-এর কায়দায় তেল আবিব উড়িয়ে দেওয়ার ছক! ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে খুনের চেষ্টা ওমানি কো-পাইলটের

আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ক্ষেত্রে এক নজিরবিহীন ও রোমহর্ষক ষড়যন্ত্রের তথ্য সামনে এসেছে। তেল আবিবগামী ফ্লাইদুহাইয়ের একটি বিমানে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে হত্যা করে ৯/১১-এর কায়দায় ইজরায়েলের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর কিংবা জনবহুল বহুতলে বিমানটি আছড়ে ফেলার ছক কষেছিলেন ওমানি কো-পাইলট হামাম আল-হাম্মামি। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত কো-পাইলট এই ভয়াবহ পরিকল্পনার কথা স্বীকার করেছে বলে ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যম Ynet-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

তদন্তে প্রকাশ, আল-হাম্মামি বিশেষভাবে ফ্লাইদুহাই বিমান সংস্থাকে বেছে নিয়েছিলেন কারণ এই এয়ারলাইন্স তেল আবিবে পরিষেবা চালায়। এমনকি সংস্থায় যোগ দেওয়ার বহু আগেই তিনি এই নাশকতার ব্লুপ্রিন্ট তৈরি করেছিলেন। গত জুন মাসে ইজরায়েল সফরকালে তিনি তথ্য সংগ্রহ করেন এবং প্রাথমিকভাবে জুলাই মাসে হামলার পরিকল্পনা করলেও শেষ মুহূর্তে ক্রু সদস্যদের সঙ্গে বন্ধুত্বের কারণে তা বাতিল করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জর্ডানের আকাশসীমা অতিক্রম করার পর ককপিটে ক্যাপ্টেন মচ্ছারের উপর ক্যাস অ্যাক্স দিয়ে হামলা চালানো হয়। এরপর তিনি বিমানের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়ায় বিমানটি এক মিনিটেরও কম সময়ে প্রায় ১৬,০০০ ফুট নীচে নেমে যায়।

তবে চরম আহত হওয়া সত্ত্বেও ভারতীয় ক্যাপ্টেন মচ্ছার ককপিটের দরজা খুলতে সক্ষম হন। এর ফলে দ্রুত যাত্রীরা ও অন্যান্য ক্রু সদস্যরা ভিতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করে ফেলেন। পরবর্তীতে ছুটিতে থাকা দুই পাইলটের সহযোগিতায় বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় উগ্রপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী ওই কো-পাইলটের নিয়োগ এবং নিরাপত্তা যাচাই পদ্ধতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু এই ঘটনার পর বিদেশি বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন।