প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করেও ঝুঁকি নিতে নারাজ! ভারতের এই কর্মীর বিনিয়োগের কায়দা তাক লাগাবে বিশেষজ্ঞদেরও

আজকের দিনে যেখানে বেশিরভাগ তরুণ ও উচ্চ আয়ের পেশাজীবীরা রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার আশায় শেয়ার বাজার, ক্রিপ্টোকারেন্সি কিংবা উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ মিউচুয়াল ফান্ডে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করছেন, ঠিক সেখানেই সম্পূর্ণ বিপরীত পথে হেঁটে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এক ব্যক্তি। প্রতি মাসে প্রায় ৩.১৭ লক্ষ টাকা মোটা অঙ্কের বেতন পাওয়া সত্ত্বেও এই ব্যক্তি স্টক মার্কেট বা মিউচুয়াল ফান্ডের ধারের কাছেও যান না। তাঁর দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনা বা ইনভেস্টিং স্ট্র্যাটেজি সম্পূর্ণভাবে সীমাবদ্ধ রয়েছে অত্যন্ত সুরক্ষিত ও প্রথাগত দুটি সরকারি সঞ্চয় মাধ্যম—এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড (EPF) এবং ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS)-এর ওপর।
বিশেষজ্ঞদের করা আর্থিক হিসাব ও অনুমান অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি যখন ৬০ বছর বয়সে এসে অবসর গ্রহণ করবেন, তখন তাঁর হাতে জমা হবে এক বিশাল অঙ্কের তহবিল। রিটায়ারমেন্টের সময় পর্যন্ত তাঁর EPF অ্যাকাউন্ট থেকে আনুমানিক ৬.১ কোটি টাকা এবং NPS থেকে প্রায় ১৪.৪ কোটি টাকা হাতে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, শেয়ার বাজারের কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়েও শুধুমাত্র এই দুটি সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের হাত ধরে তাঁর মোট রিটায়ারমেন্ট কর্পাস বা সঞ্চয়ের পরিমাণ গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ২০.৫ কোটি টাকায়।
এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দেয় যে, উচ্চ আয়ের পাশাপাশি আর্থিক শৃঙ্খলা এবং দীর্ঘমেয়াদী সুপরিকল্পিত সঞ্চয় কীভাবে একজন মানুষকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত উপায়ে এক বিশাল আর্থিক নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিতে পারে। যেখানে সাধারণ মানুষ শেয়ার বাজারের ওঠানামায় সবসময় আতঙ্কে থাকেন, সেখানে এই কর্মীর অনুশাসনমূলক বিনিয়োগ নীতি তরুণ প্রজন্মের সামনে এক নতুন পথ প্রদর্শন করেছে।