পবিত্র মদিনায় হুতিদের ড্রোন হামলা! মহানবীর মসজিদের পাওয়ার স্টেশনকে টার্গেট করায় মুসলিম বিশ্বে চরম ক্ষোভ

কট্টরপন্থা যে কোনো ধর্ম, মতাদর্শ বা সংগঠনের জন্য কতটা ভয়ানক হতে পারে, তার ফের এক চরম নজির দেখল মধ্যপ্রাচ্য। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা এবার ইসলাম ধর্মের দ্বিতীয় পবিত্রতম শহর মদিনা এবং নবী করিমের মসজিদের পাওয়ার স্টেশনকে টার্গেট করে মারাত্মক ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর আগে পবিত্র মক্কা শরীফকে নিশানা করার পর, এবার খোদ মদিনার তৈবা পাওয়ার স্টেশনে এই হামলার ঘটনা গোটা মুসলিম বিশ্বকে স্তম্ভিত ও ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। হুতিদের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও পবিত্র স্থানগুলিতে আঘাত হানার ঘটনায় উপসাগরীয় দেশগুলি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং সৌদি আরবের পাশে থাকার জোরালো বার্তা দিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডনসহ একাধিক আরব দেশ এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইসলামের দুই পবিত্র মসজিদকে ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মুসলমানের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হেনে চরম উসকানি ছড়ানো। পবিত্র মদিনার এই মসজিদে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কেন্দ্রে আঘাত হানার ফলে সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন করে বড়ো প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।

শুধু ধর্মীয় স্থানই নয়, হুতি বিদ্রোহীরা সৌদির তেল শিল্পকেও নিয়মিতভাবে নিশানা করে চলেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলে লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে তারা। এই তেল টার্মিনালটি দেশের অন্যতম প্রধান শিল্প ও অপরিশোধিত তেল রপ্তানি কেন্দ্র, যেখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ১৫ লক্ষ ব্যারেল তেল বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে পাঠানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যের এই জলবায়ুতে হুতিদের লাগাতার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকেই নষ্ট করছে না, বরং কট্টরপন্থী সন্ত্রাসবাদ কীভাবে খোদ নিজেদের ধর্মের পবিত্রতাকেও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে, বর্তমান পরিস্থিতি তারই এক নির্মম ও জীবন্ত উদাহরণ।