ভারতের দাবি মিথ্যে প্রমাণ করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়ল পাকিস্তান! মৃত লস্কর কমান্ডারকে ‘জীবিত’ সাজানোর জঘন্য চক্রান্ত ফাঁস

অপপ্রচার আর নিজেদের বিশ্বদরবারে হাস্যকর করে তোলার প্রতিযোগিতায় পাকিস্তান যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী, তা আবারও প্রমাণ হলো। জম্মু ও কাশ্মীরের বুদগামে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে কুখ্যাত লস্কর-ই-তৈবা কমান্ডার তথা প্রাক্তন স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ (SSG) কমান্ডো মহম্মদ আসিফ ওরফে হাশিম মুসার নিহত হওয়ার খবর সামনে আসার ঠিক একদিন পরই মরিয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তান। ভারতের এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করতে বৃহস্পতিবার তড়িঘড়ি সংবাদমাধ্যমের সামনে মৃত জঙ্গিরই মতো দেখতে এক ব্যক্তিকে হাজির করে পাক সেনা। তবে তাদের এই সস্তা ও নিম্নমানের নাটক বেশিক্ষণ টেকেনি।
ওএসআইএনটি (OSINT) তদন্তে ফাঁস পাকিস্তানের পোল
পাকিস্তান যাকে লস্কর কমান্ডার মহম্মদ আসিফ বলে দাবি করেছিল, তাকে প্রথম মুহূর্ত থেকেই সন্দেহের চোখে দেখেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। স্বাধীন ওএসআইএনটি (OSINT) বা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স অ্যাকাউন্টগুলির গবেষকরা খুব দ্রুত ওই ব্যক্তির মুখের গড়ন, শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং প্রকৃত কমান্ডারের বায়োমেট্রিক তথ্যের ফারাক ধরে ফেলেন। ফলে ভারতের দাবিকে খণ্ডন করার উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের এই ডামি বা নকল ব্যক্তিকে সামনে আনার অপচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলের সামনে মুহূর্তেই ফাঁস হয়ে যায়।
পাক সেনার প্রেস কনফারেন্সের নাটক
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে ডিজি আইএসপিআর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী ওই ব্যক্তিকে সবার সামনে নিয়ে আসেন। ভারত-বিরোধী প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর জন্য কুখ্যাত ওই সামরিক আধিকারিকের উপস্থিতিতে মঞ্চে হাজির করা হয় এক ব্যক্তিকে। নিজেকে মৃত মহম্মদ আসিফ হিসেবে পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি দাবি করেন যে, তিনি ২০২৩ সালে এসএসজি থেকে হাবিলদার পদমর্যাদায় অবসর নিয়েছেন এবং ২০০০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। ক্যামেরার সামনে তাঁর সেই নাটকীয় সংলাপ ছিল— “আমি জীবিত এবং আপনাদের সামনে উপস্থিত।”
কিন্তু স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিখুঁত বিশ্লেষণে প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, ভারতের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা ছড়াতেই ডামি ব্যক্তি দাঁড় করিয়েছিল পাকিস্তান। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আবারও তাদের মুখ পুড়ল এবং সন্ত্রাসবাদকে আড়াল করার আসল চেহারাটা চরমভাবে উন্মোচিত হলো।