রাজধানীতে দিনেদুপুরে এ কী কাণ্ড! সাদা চাদর গায়ে ‘জীবন্ত ভূত’ সেজে জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি

মুখ ঢাকা সাদা কাপড়ে। অর্ধেক শরীরের ওপর জড়ানো সাদা থান। চোখের জায়গায় নিখুঁতভাবে কাটা দুটি কালো ছিদ্র। রোদে ঝলমল করা দিল্লির রাজপথে আচমকাই দেখা মিলল একদল ‘জীবন্ত ভূতে’র! যাদের অদ্ভুত সাজসজ্জা দেখে খোদ চোখ কপালে তুলল দিল্লি পুলিশও। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR)-এ ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে ইস্তফার দাবিতে শুক্রবার রাজধানীতে এমনই এক নজিরবিহীন ও অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করল যুব কংগ্রেস।
‘ভোট কেটে সবাইকে ভূত বানিয়ে দিয়েছে কমিশন!’
সমাজমাধ্যমে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, যুব কংগ্রেসের সদস্যরা সাদা চাদর মাথা থেকে পা পর্যন্ত মুড়ে রাস্তায় নেমে স্লোগান দিচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং কেন্দ্রের জমানার নীতির কারণেই দেশের প্রায় ১৪ কোটি মানুষ তাঁদের ভোটাধিকার হারিয়ে আক্ষরিক অর্থেই ‘ভূতে’ পরিণত হয়েছেন। প্রতিবাদীদের মধ্যে এক বিক্ষোভকারী নিজেকে ‘গিরিশ কুমার ভূত’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেন, তাঁর নিজের ভোটটুকুই কেটে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সিইসি পদত্যাগ না করা পর্যন্ত এই ‘ভূতের দল’ আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে যুব কংগ্রেস।
গান্ধী জয়ন্তীতে রণক্ষেত্র যন্তর মন্তর
এদিন মহাত্মা গান্ধী জয়ন্তীর পবিত্র দিনেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে রাজধানী জুড়ে কার্যত বিস্ফোরণ ঘটে। বিরোধী রাজনৈতিক দল, ছাত্র-যুব সংগঠন এবং বিভিন্ন সমাজকর্মীরা দলবেঁধে পথে নামে। যন্তর মন্তরের দিকে প্রতিবাদ মিছিল এগোতেই শুরু হয় পুলিশের বাধা, ধস্তাধস্তি এবং টানাহেঁচড়া।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লি পুলিশ চরম তৎপরতা দেখায়। বিক্ষোভ ঠেকাতে সেন্ট্রাল দিল্লিকে কার্যত একটি দুর্গে পরিণত করা হয়। নিরাপত্তার অজুহাতে রাজধানীর ১২টি মেট্রো স্টেশনের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন দেড় কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবাও স্থগিত রাখা হয়। চারপাশ ঘিরে ফেলা হয় ছয় স্তরের শক্তিশালী লোহার ব্যারিকেড ও সিসিটিভির কড়া নজরে।
হাজারের বেশি বিক্ষোভকারী আটক
পুলিশের ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা ও ব্যারিকেড উড়িয়ে যুব কংগ্রেস ও অন্যান্য বাম-বিরোধী ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা রাস্তায় নেমে পড়েন। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি, ডিওয়াইএফআই-এর সর্বভারতীয় সভাপতি এ এ রহিম, এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য, আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ ও বিধায়ক সঞ্জীব ঝা এবং আইসা নেত্রী নেহা বোরাসহ প্রায় এক হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে এদিন আটক করে দিল্লি পুলিশ। যদিও পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের সমস্ত নিরাপত্তা বেষ্টনীকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিরোধীদের এই ‘ভূত বিক্ষোভ’ রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।