পুজোর আগে চরম উত্তেজনা! অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পেয়ে প্রকাশ্যেই বিজেপি বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ মহিলাদের

দুর্গাপুজোর ঠিক আগে সরকারি প্রকল্পের টাকা না পাওয়ার ক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠল দুর্গাপুর। ফর্ম ফিলাপ করার দীর্ঘ মাস পেরিয়ে যাওয়ার পরও অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না ঢোকায় দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক লক্ষণচন্দ্র ঘোড়ইকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন ক্ষুব্ধ মহিলারা। শুক্রবার সকালে দুর্গাপুরের বোকারো হোস্টেল এলাকায় আয়োজিত ‘সেবা সেতু ক্যাম্প’-এ এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে।
ঠিক কী অভিযোগ মহিলাদের?
বিক্ষোভকারী মহিলাদের বেশিরভাগই পরিচারিকার কাজ করে সংসার চালান। তাঁদের অভিযোগ, নিয়ম মেনে তাঁরা বেশ কয়েক মাস আগেই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য সমস্ত নথিপত্র দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করেছিলেন। আশা ছিল, সরকারের এই সাহায্য তাঁদের পুজোর দিনগুলিতে কিছুটা স্বস্তি দেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, যাঁদের প্রকৃত প্রয়োজন নেই বা যাঁদের সচ্ছল পরিবার রয়েছে, তাঁদের অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা ঢুকছে; অথচ দিন আনা দিন খাওয়া গরিব মহিলারা এখনও হকের টাকা থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত। এই বৈষম্য নিয়েই এদিন ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা।
কী আশ্বাস দিলেন বিধায়ক?
হঠাৎ এই বিক্ষোভের মুখে পড়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন বিধায়ক লক্ষণচন্দ্র ঘোড়ই। তিনি বিক্ষুব্ধ মহিলাদের সমস্ত অভিযোগ মন দিয়ে শোনেন এবং নিজ হাতে তাঁদের অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্মগুলি জমা নেন।
পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে বিধায়ক আশ্বাস দিয়ে বলেন, “আজ যে ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছিল, সেখানে অন্নপূর্ণা যোজনার বিষয়টি ছিল না। তবে টাকা না পাওয়া মহিলারা এখানে আসায় আমি তাঁদের ফর্মগুলি নিয়েছি। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে পারি, দুর্গাপুজোর আগেই বহু উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যাবে। আর যাঁদের পুজোর আগে ঢুকবে না, তাঁরা নিশ্চিতভাবেই ডিসেম্বরের মধ্যে টাকা পেয়ে যাবেন।”
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে মহিলাদের আর্থিক সহায়তার এই প্রতিশ্রুতি ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। তবে সরকার গঠনের পর বিভিন্ন জায়গায় এই প্রকল্পের টাকা বন্টন নিয়ে অভিযোগ ও অসন্তোষের ছবি মাঝে মাঝেই সামনে আসছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহিলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। পুজোপ্রাক্কালে সাধারণ মানুষের এই ক্ষোভ প্রশমিত করে সরকার কতটা দ্রুত টাকা অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দিতে পারে, এখন সেটাই দেখার।