যুদ্ধের আতঙ্কে কাঁপছে গালফ নেশনস! খনিজ তেল ও গ্যাসের প্রধান হাব রক্ষা করতে বড় পদক্ষেপ ওয়াশিংটনে

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক তৎপরতা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করল পেন্টাগন। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং কৌশলগত অংশীদারদের সুরক্ষা দিতে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরব ও কাতারে অতিরিক্ত দুটি উন্নত ‘প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি’ (Patriot Missile Battery) মোতায়েন করেছে। ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলের এই দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গভীর উদ্বেগের পরই ওয়াশিংটন এই বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আঞ্চলিক নেতাদের তীব্র আশঙ্কা ছিল যে, আমেরিকার সঙ্গে ইরানের নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হলে তেহরান সবার আগে তাদের প্রধান পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস সমৃদ্ধ পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে পারে।

প্রতিবেদনে প্রকাশ, মোতায়েনকৃত দুটি প্যাট্রিয়ট ইউনিটের একটিকে সৌদি আরবের অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বৃহৎ তেল শোধনাগার বা জ্বালানি কেন্দ্রের সুরক্ষায় এবং অপরটিকে কাতারের একটি প্রধান গ্যাস উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ সুবিধার চারপাশে স্থাপন করা হয়েছে। গত আগস্ট মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানি জ্বালানি কেন্দ্রগুলিতে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা বিবেচনা করছিলেন, সে সময় সৌদি আরব ও কাতারের শীর্ষ নেতৃত্ব ওয়াশিংটনকে এই ধরনের আক্রমণ থেকে বিরত থাকার জোরালো অনুরোধ জানিয়েছিল। তাদের মূল শঙ্কা ছিল যে, এর জেরে তেহরানের প্রতিশোধমূলক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের গোটা দেশের অর্থনীতি এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে এই ধরনের স্পর্শকাতর তেল বা গ্যাস স্থাপনাগুলিতে কোনো রকম হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এক মারাত্মক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যের ওপর মারাত্মক আঘাত হানতে পারে। এদিকে, এই প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম মোতায়েনের ফলে মার্কিন সামরিক স্টকপাইলের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার জেরে ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের চাহিদা বিশ্বজুড়ে আকাশচুম্বী হয়েছে। ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’ (CSIS)-এর সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ধারাবাহিক ব্যবহারের ফলে মার্কিন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের মজুত বর্তমানে ১,০০০ ইউনিটের নিচে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি আরও পাকাপোক্ত করতে পেন্টাগন ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ, ফাইটার জেট এবং প্রায় ৯,০০০ সৈন্যসহ ‘মেকিন আইল্যান্ড অ্যাম্ফিবিয়াস রেডি গ্রুপ’-কে ইতিমধ্যেই মোতায়েন করেছে।