মাঝআকাশে রক্তঝরা আতঙ্ক! ফ্লাইদুবাই হামলার পরই কি তবে নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র? বড় পদক্ষেপের পথে ভারত

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই বিমানের ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের ওপর প্রাণঘাতী হামলা এবং ককপিট দখলের চেষ্টার পর নড়েচড়ে বসল কেন্দ্রের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। এই রোমহর্ষক ঘটনার জেরে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির জন্য নতুন কোনো নিরাপত্তা নির্দেশিকা বা ‘সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি’ জারি করা প্রয়োজন কি না, তা এখন উচ্চপর্যায়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ সচিব সমীর কুমার সিনহা এই বিষয়ে কেন্দ্রের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও দুঃখজনক বলে অভিহিত করার পাশাপাশি বীর ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে যেভাবে ক্যাপ্টেন মচ্ছার ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছেন, তাতে গোটা দেশ গর্বিত।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ভাবনা ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে নতুন কোনো সতর্কবার্তা বা নিয়ম জারি করা হবে কি না, সেই প্রসঙ্গে সচিব জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই দেশের বিমান নিরাপত্তা সংক্রান্ত শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেই আলোচনার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে নিরাপত্তা নির্দেশিকা পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
যেহেতু এই ভয়াবহ ঘটনাটি একটি বিদেশি বিমান সংস্থার বিমানে এবং অন্য দেশের আকাশসীমায় ঘটেছে, তাই কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে এখনই সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চাইছে না মন্ত্রক। তবে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা সম্পূর্ণ হলেই এবিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল আকাশে? গত বুধবার দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের ‘FZ1073’ বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানে এক কো-পাইলট হঠাৎই ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের ওপর হামলা চালিয়ে ককপিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করে। উত্তর সৌদি আরবের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় মাত্র ত্রিশ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি অবিশ্বাস্যভাবে ১৭ হাজার ফুটেরও বেশি নিচে নেমে আসে। গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত অবস্থাতেও হার মানেননি ক্যাপ্টেন স্মিত। তিনি চরম সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। কাকতালীয়ভাবে সেই বিমানেই যাত্রী হিসেবে থাকা অন্য দুই পাইলট দ্রুত ভেতরে ঢুকে হামলাকারীকে কাবু করেন এবং তাবুকের বিমানবন্দরে বিমানটিকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করান।