জন্মদিনেই এশিয়ান গেমসে সোনা জয় লভলিনার! মেরি কমের পর ইতিহাস গড়ে কী বললেন তারকা বক্সার?

এশিয়ান গেমসে দেশের নাম উজ্জ্বল করলেন তারকা বক্সার লভলিনা বোরগোহাইন। শুক্রবার মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে চিনের শক্তিশালী প্ৰতিপক্ষ বাও জিয়িকে ৫-০ ব্যবধানে একপেশেভাবে পরাজিত করে সোনা জয় করেন তিনি। নিজের ২৯তম জন্মদিনের দিনে এমন ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়ে আপ্লুত ভারতীয় ক্রীড়াজগত। ফাইনালে শুরু থেকেই চিনা প্রতিপক্ষ আক্রমণাত্মক মেজাজ নিলেও, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এবং ধৈর্য ধরে নিজের কৌশল বজায় রাখেন লভলিনা। প্রতিপক্ষকে সামান্য এগিয়ে আসার সুযোগ দিয়ে একদম সময়মতো নির্ভুল কাউন্টার পাঞ্চ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত পাঁচ বিচারকের সর্বসম্মত রায়ে জয় ছিনিয়ে নেন এই ভারতীয় তারকা।

এই সোনার পদকের হাত ধরে এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ করলেন লভলিনা। তিনি দেশের দ্বিতীয় মহিলা বক্সার হিসেবে এশিয়ান গেমসে সোনা জয়ের গৌরব অর্জন করলেন। এর আগে ২০১৪ সালে এই অনন্য কৃতিত্বের অধিকারী হয়েছিলেন কিংবদন্তি মেরি কম। ফলে ভারতীয় মহিলা বক্সিংয়ে এশিয়ান গেমসের সোনার মেডেলের জন্য দীর্ঘ ১২ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটল। এর আগে সেমিফাইনালে কাজাখস্তানের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নাতালিয়া বোগদানভাকে ৩-২ ব্যবধানে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। সেই জয়ের সুবাদেই পরপর দু’টি এশিয়ান গেমসের ফাইনালে ওঠা প্রথম ভারতীয় মহিলা বক্সার হিসেবে রেকর্ড গড়েছিলেন লভলিনা।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের হাংঝৌ এশিয়ান গেমসে ৭৫ কেজি বিভাগে রুপো জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাঁকে। দীর্ঘ পরিশ্রামের পর এবার সেই রুপোর পদককে সোনায় রূপান্তরিত করলেন তিনি। টোকিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী এই বক্সারের বর্ণময় কেরিয়ারে এশিয়ান গেমসের এই সোনা আরও একটি উজ্জ্বল সংযোজন। ১৯৯৭ সালের ২ অক্টোবর আসামের গোলাঘাট জেলার বারো মুখিয়া গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করা লভলিনা তাঁর নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ দেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ। গুয়াহাটির এনসিওই (NCOE)-তে প্রশিক্ষণ নেওয়া এই প্রতিভাবান বক্সার এর আগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা এবং অলিম্পিকেও দেশের পতাকা উড়িয়েছেন। তাঁর এই বিশাল অর্জন উত্তর-পূর্ব ভারতের উদীয়মান তরুণ ক্রীড়াবিদদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।