“সিবিআই তদন্ত চললেও কেন নতুন এফআইআর?” আরজি কর কাণ্ডে খড়দা থানার পুলিশকে চরম ধমক হাইকোর্টের, দিতে হলো বড় নির্দেশ

আরজি করের তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় দায়ের হওয়া নতুন এফআইআর নিয়ে এবার তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সিবিআই তদন্তের তত্ত্বাবধানে থাকা সত্ত্বেও খড়দা থানা কীভাবে নতুন করে এফআইআর করল এবং দেহ পোড়ানোর ঘটনার তদন্ত শুরু করল, সেই প্রশ্ন তুলেছে আদালত। এই পরিস্থিতিতে রাজ্য পুলিশকে একহাত নিয়ে সমস্ত নথিপত্র অবিলম্বে সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ।
বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বিশেষ বেঞ্চে বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি ছিল। গত ২৬ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট খড়দা থানার আইও এবং আইসিকে তলব করেছিল। এদিন তাঁরা আদালতে হাজিরা দিলে আদালতের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়, উচ্চ আদালতের নির্দেশে যখন সিবিআই ইতিমধ্যেই এই ঘটনার সামগ্রিক তদন্ত করছে, তখন পুলিশ কেন আলাদা করে নতুন এফআইআর দায়ের করল? পুলিশের কি জানা ছিল না যে মামলাটি হাইকোর্টের নজরদারিতে রয়েছে? পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আদালত নির্দেশ দিলে তারা সমস্ত নথি হস্তান্তর করে দেবে। এরপরই আদালতের তরফে মামলার সমস্ত নথিপত্র এবং নতুন এফআইআর ব্যারাকপুর এসিজেএম থেকে অবিলম্বে শিয়ালদার এসিজেএম-এর কাছে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা পরবর্তীতে সিবিআইয়ের হাতে যাবে।
উল্লেখ্য, দিনকয়েক আগে নিহত চিকিৎসকের বাবা অভিযোগ করেছিলেন যে, তৎকালীন শাসকদলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা কোনও সময় না দিয়ে তড়িঘড়ি নির্যাতিতার দেহ সৎকার করেছিলেন। পরবর্তীতে গত ৯ অগস্ট নির্যাতিতার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটকে দেহ পোড়ানোর ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যার জেরে খড়দা থানায় প্রাক্তন এক তৃণমূল বিধায়কসহ তিনজনের বিরুদ্ধে নতুন এফআইআর দায়ের হয়। আর সেই আইনি পদক্ষেপের বৈধতা এবং এক্তিয়ার নিয়েই এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট।