আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ এবং আকাশছোঁয়া তেল! ভারতীয় অর্থনীতির সামনে কোন ভয়ানক বিপদের সংকেত?

ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি সন্তোষজনক হলেও বিশ্ব বাজারের কিছু নতুন চাপ এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা দেশের অর্থনীতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে। অর্থ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এই বিষয়গুলিকে নতুন ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এক মাসে প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়ল তেলের দাম

অর্থ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতীয় অপরিশোধিত তেলের ঝুড়ির (Crude Oil Basket) গড় দাম সেপ্টেম্বরে একলাফে অনেকটাই বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৬.০৪ ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১,১৩৮ টাকা) পৌঁছেছে। এর আগের মাসে অর্থাৎ আগস্টে এই দাম ছিল ৯০.১৯ ডলার (প্রায় ৮,৬৫৭ টাকা)। অর্থাৎ, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রতি ব্যারেলের দাম বেড়েছে প্রায় ২৫.৮৫ ডলার বা শতাংশের বিচারে প্রায় ২৮.৬৬ শতাংশ।

ভারত তার জ্বালানি প্রয়োজনের একটি বিশাল অংশ আমদানি করে থাকে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এভাবে দীর্ঘদিন উর্ধ্বমুখী থাকলে দেশের আমদানি খরচ হু হু করে বাড়বে। আর তার জেরে পরিবহণ, পণ্য সরবরাহ, উৎপাদন এবং সামগ্রিক ব্যবসায়িক খরচ বৃদ্ধির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটেও সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

অর্থনীতি শক্তপোক্ত, তবে চ্যালেঞ্জ রয়েছে

তৈল মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি আবহাওয়া জনিত অস্থিরতার কারণে খুচরো, পাইকারি এবং উৎপাদক—তিন স্তরেই মূল্যবৃদ্ধির চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রক। তবে আশার কথা হলো, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি এখনও সরকারের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে ভারতের প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৮ শতাংশ। এছাড়া শিল্প ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থিক ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা ক্ষেত্রেও জোরালো গতি দেখা গেছে।

পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির জেরে আমেরিকার সম্ভাব্য উচ্চ শুল্ক আরোপের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তা সত্ত্বেও চলতি অর্থবর্ষে নিট প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অর্থনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।