‘অসাধারণ সাহসিকতা!’ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও অলৌকিক কায়দায় ফ্লাইট বাঁচালেন ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড১০৭৩ (FZ1073) বিমানের ককপিটে ঘটে গেল এক রোমহর্ষক ও ভয়াবহ ঘটনা। মাঝআকাশে হঠাৎই সহ-পাইলটের নৃশংস ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। হামলাকারী সহ-পাইলট বিমানের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে প্রায় ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বিমানটি প্রায় ১৪ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। মারাত্মক জখম ও প্রচুর রক্তক্ষরণের পরেও হার না মেনে নিজের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে ককপিটের দরজা খুলে দেন স্মিত। এর পরই যাত্রী ও ক্রু সদস্যরা দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করে হামলাকারীকে কাবু করেন। শেষ পর্যন্ত বিমানটি নিরাপদে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পরই ভারতীয় পাইলটের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচানোর জন্য স্মিত মাচ্ছরকে ‘সত্যিকারের নায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করেন এবং ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করে তাঁকে ‘হিরো’ বলে অভিহিত করেন। ট্রাম্প জানান, নেতানিয়াহুর সঙ্গেই তাঁর এই বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। বিমানটিতে থাকা এক ইজরায়েলি যাত্রী, যিনি পেশায় প্লাম্বার, তিনিও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে হামলাকারীকে পাইলটের আসন থেকে সরিয়ে দেন বলে জানা গিয়েছে।
বর্তমানে সৌদি আরবের তাবুকের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাহসিকতার প্রতীক হয়ে ওঠা ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছর। ভারতীয় দূতাবাস তাঁর পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ওমানের নাগরিক ওই অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে সৌদি কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং হামলার নেপথ্যের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। ফ্লাইদুবাই কর্তৃপক্ষ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো জল্পনা না করার অনুরোধ জানিয়েছে। মাঝআকাশের এই ভয়াবহ বিপদ থেকে যেভাবে যাত্রীদের রক্ষা করেছেন স্মিত মাচ্ছর, তা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।