সরকারি খরচে রাজকীয় ট্রিপ! প্যালেস অন হুইলসে ৩৩৬ রেলকর্তার বিলাসবহুল সফর নিয়ে বিস্ফোরক তদন্তের দাবি ডিএমকে সাংসদের

দেশের রেল মন্ত্রকে এক বিরাট আর্থিক কেলেঙ্কারির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল। আইআরসিটিসি (IRCTC) পরিচালিত ‘প্যালেস অন হুইলস’, ‘মহারাজাস এক্সপ্রেস’ এবং ‘ডেকান ওডিসি’-র মতো বিশ্বমানের বিলাসবহুল ট্রেনে সপরিবার রাজকীয় ভ্রমণের নামে সরকারি তছরুপের গুরুতর অভিযোগ উঠল। গত ১২ বছরে ৩৩৬ জন রেল আধিকারিক তাঁদের জীবনসঙ্গীদের নিয়ে এই বিলাসবহুল যাত্রা উপভোগ করেছেন বলে অভিযোগ করে সোজা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ডিএমকে-র লোকসভা সাংসদ ভিএস ম্যাথেশ্বরন।
সূত্রের খবর, এই বিলাসবহুল ট্রেনগুলির জনপ্রতি ভ্রমণ খরচ ৪.৫ লক্ষ টাকা থেকে শুরু করে ২৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। প্রধানমন্ত্রী মোদির উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে ডিএমকে সাংসদ বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন যে, ‘রেলওয়ে সার্ভেন্টস (পাস) রুলস, ১৯৮৬’-এর অধীনে এই ধরনের ভ্রমণের বৈধতা নিয়ে বিগত দিনে সংসদে সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে রেল মন্ত্রক।
সাংসদের দাবি অনুযায়ী, ২০২২ সালে রেল মন্ত্রক লোকসভাকে জানিয়েছিল যে রেল আধিকারিকরা পাস ব্যবহার করে তাঁদের পরিবার নিয়ে এই ট্রেনগুলিতে ভ্রমণ করতে পারেন। অথচ গত ২৯ জুলাই তাঁরই করা এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রক জানিয়েছে, রেলপাস দিয়ে জীবনসঙ্গীদের নিয়ে এই ট্রেনগুলিতে চড়ার কোনো নিয়ম নেই। এই দুই বিবরণের অসঙ্গতি ঘিরেই এখন জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি, ২০১৭ সালে রেলওয়ে সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মন্ত্রককে এই ধরনের বিলাসবহুল ট্রেনের সৌজন্যমূলক বা কমপ্লিমেন্টারি টিকিট দেওয়া বন্ধ করার কড়া নির্দেশ দিলেও, মন্ত্রক সেই নির্দেশ মানেনি বলে অভিযোগ। এখন দেখার বিষয়, ৩৩৬ জন আধিকারিকের এই রাজকীয় সফর ও সরকারি অর্থের অপব্যবহারের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী কী পদক্ষেপ নেন।