রাজ্যে লাফিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গি! নবান্নের কড়া পদক্ষেপে চিহ্নিত ১২টি বিশেষ হটস্পট

রাজ্যে ডেঙ্গির ক্রমবর্ধমান প্রাদুর্ভাব নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নবান্ন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবার আক্রান্তের সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে গোটা রাজ্যে মোট ১২টি স্পর্শকাতর এলাকা বা ‘হটস্পট’ চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার। ডেঙ্গি সংক্রমণ রোধে একটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর কৌশল সাজিয়ে মাঠে নামছে প্রশাসন। রাজ্য সরকার সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, ডেঙ্গি আক্রান্তের সর্বকালীন ও সর্বোচ্চ সংখ্যার নিরিখে বর্তমানে তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছে কলকাতা পৌরসংস্থা। কলকাতার মধ্যে বিশেষ করে ২, ৫, ১৬, ৭৭ এবং ১১৭ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

কলকাতার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতেও ডেঙ্গির দাপট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকে ১০৩ জন, নওদায় ৫১ জন এবং লালগোলায় ৩২ জন মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, নদিয়া জেলার তেহট্ট-১ ব্লকে ৭৪ জন এবং উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার মাল ও মাটিয়ালি ব্লকে যথাক্রমে ৬৭ ও ৩৮ জন আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। এছাড়া হাওড়া পৌরনিগম এলাকায় ৪৪ জন এবং হুগলির পোলবা ব্লকে ৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হাওড়ার ১৫, ২১ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডকে বিশেষভাবে নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়-১ ও ভাঙড়-২ ব্লকে যথাক্রমে ৩৬ ও ৩২ জন এবং শিল্পাঞ্চল আসানসোল পৌরনিগম এলাকায় ৩২ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

পরিস্থিতির অবনতি রুখতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবার বড় পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য স্কুল শিক্ষা দফতর। নবান্নে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায় ডেঙ্গি পর্যালোচনা বৈঠকের পরেই রাজ্যের সমস্ত জেলার স্কুল পরিদর্শকদের কাছে একটি জরুরি নির্দেশিকা পাঠিয়েছে বিকাশ ভবন। নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে এবার থেকে ব্যাপক ও নিয়মিত সচেতনতামূলক অভিযান চালাতে হবে। স্কুলপড়ুয়াদের এই অভিযানের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত করে ডেঙ্গি প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতার বার্তা সমাজের প্রতিটি ঘরে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের আশা, এই সম্মিলিত প্রচেষ্টায় খুব শীঘ্রই ডেঙ্গির প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।