রাঁচিতে কর্মা মেলা থেকে ফেরার পথে তরুণীকে গণধর্ষণ: দুই নাবালকসহ গ্রেপ্তার ৪

রাঁচির রতু থানা এলাকার কর্মা উৎসবের মেলা থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক তরুণীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই ঘৃণ্য অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুই নাবালকসহ মোট চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে সন্দীপ মুন্ডা ওরফে রাবণ ও সুনীল মুন্ডাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং দুই নাবালককে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২২শে সেপ্টেম্বর গভীর রাতে এই জঘন্য ঘটনা ঘটে। কর্মা পূজা উপলক্ষে মেলায় যোগ দিতে গিয়ে স্থানীয় চাটকপুর পঞ্চায়েত এলাকায় গিয়েছিলেন অভিযুক্তরা। মেলা থেকে ফেরার পথে তারা মাদক সেবন করে। ঠিক সেই সময়ই এক তরুণীকে একা মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেখে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য জাগে। অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ওই তরুণীকে একটি নির্জন স্থানে তুলে নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে গণধর্ষণ করে। নির্যাতিতা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি সোনার চেন ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

ঘটনার চার দিন পর, অর্থাৎ গত ২৬শে সেপ্টেম্বর নির্যাতিতা তরুণী নিজে বাদী হয়ে রাতু থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন। মামলার গুরুত্ব ও সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে রাঁচি এসএসপি-র কঠোর নির্দেশিকায় গ্রামীণ পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়। ডিএসপি-২ অজয় আরিয়ানের কমান্ডে শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত ভৌত প্রমাণাদি, প্রযুক্তিগত তদন্ত (টেলিকম ও মোবাইল লোকেশন ডেটা) এবং মানবিক গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নিখুঁতভাবে অপরাধীদের চিহ্নিত করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধৃত ব্যক্তি ও নাবালকরা তাদের অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। পুলিশের তল্লাশিতে ধৃত সন্দীপ মুন্ডার কাছ থেকে নির্যাতিতার ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে, যা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে কাজ করছে। এছাড়া বিক্রি করে দেওয়া চেনটি উদ্ধারেরও চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে মামলার আইনি প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নারী সুরক্ষায় কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না এবং এই মামলার চার্জশিট দ্রুত আদালতে পেশ করে অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।