ডুয়ার্সে গাছবাড়ি আর সুন্দরবনে আধুনিক জেটি! বাংলার পর্যটন মানচিত্র বদলাতে আসরে নামছেন মিঠুন

পাহাড়, জঙ্গল আর সমুদ্র— প্রকৃতির এমন অপূর্ব ও বৈচিত্র্যময় সমাহার খুব কম অঞ্চলেই দেখতে পাওয়া যায়। তার ওপর বাঙালির চিরাচরিত উষ্ণ আতিথেয়তা এবং জিভে জল আনা হরেক রকমের রসনা তো রয়েছেই। সব মিলিয়ে বাংলার পর্যটন মানচিত্রে সম্ভাবনার কোনো কমতি নেই। আর এই অপার সম্ভাবনাকে এবার আন্তর্জাতিক স্তরে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছে দিতে এক বড় ও কৌশলগত উদ্যোগ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। পর্যটনকে নতুন দিশা দেখাতে এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলার ঐতিহ্য তুলে ধরতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর তুরুপের তাস হিসেবে আসরে নেমেছেন প্রবীণ অভিনেতা তথা প্রাক্তন সাংসদ মিঠুন চক্রবর্তী।
বাংলার সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে অটুট রেখে পর্যটন শিল্পের আধুনিক প্রসারে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা হিসেবে নিযুক্ত করেছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে বিশ্বমানের করে তুলতে এবার সেই ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তীরই দ্বারস্থ হয়েছে পর্যটন দফতর। মঙ্গলবার নিউ সেক্রেটারিয়েটে মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী বিশাল লামা এবং পর্যটন ও তথ্য সংস্কৃতি দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। এদিনের এই বৈঠকে মূলত সুন্দরবন এবং ডুয়ার্সের পর্যটন শিল্পকে একেবারে নতুন আঙ্গিকে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার পর্যটনকে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও বেশি আকর্ষক করে তুলতে বৈঠকে বেশ কিছু যুগান্তকারী প্রস্তাব দিয়েছেন মিঠুন চক্রবর্তী। সুন্দরবনে আগত পর্যটকদের যাতায়াত ও সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে আরও অত্যাধুনিক বোট এবং উন্নতমানের জেটি তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ডুয়ার্সের অকৃত্রিম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে সেখানে গাছবাড়ি বা ট্রি-হাউসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন। তবে এই সমস্ত ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি রেখেছেন কর্মসংস্থানকে। পর্যটনকে কেন্দ্র করে যাতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ আরও বেশি করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়, সেদিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মহাগুরুকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাশে পেয়ে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। বাংলার পর্যটনের প্রসার ঘটাতে মিঠুন চক্রবর্তীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বৈঠক শেষে তিনি জানান, “মহাগুরু চান পর্যটনকে কেন্দ্র করে যেন বাংলার আরও বেশি করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান হয়। রাজ্যের পর্যটন শিল্পকে সুন্দর করে সাজিয়ে তুলতে আমরা মিঠুনদার সুচিন্তিত পরামর্শ নিচ্ছি। বেশ কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে এবং বাংলার পর্যটনকে বিশ্বদরবারে প্রোমোট করার জন্য আমি মিঠুনদাকে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছি।”
বৈঠকের পর নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন পর্যটনমন্ত্রী। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গ ও পাহাড়ি এলাকায় পর্যটনের যে বিপুল ও অব্যবহৃত সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে কীভাবে আরও সুচারুভাবে কাজে লাগানো যায়, তা নিয়ে বৈঠকে গভীর আলোচনা হয়েছে। বিশ্বের দূরদূরান্ত থেকে আরও বেশি সংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটককে বাংলার মাটিতে আকৃষ্ট করাই এখন রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণে মিঠুন চক্রবর্তীর মতো অভিজ্ঞ ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বের পরামর্শ ও প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ যে রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে একটি নতুন ও ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করবে, সে বিষয়ে এককথায় একমত রাজনৈতিক মহল ও ওয়াকিবহাল সমাজ।