মিনিটে ১২০০ বার স্পন্দন! বিশ্বের সবচেয়ে ছোট এই পাখির রহস্য জানলে চোখ কপালে উঠবে

প্রকৃতির এক বিস্ময়কর সৃষ্টি হলো হামিংবার্ড। এই ছোট্ট পাখিটি তার অবিশ্বাস্য গতি এবং ওড়ার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। তবে এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর হৃদস্পন্দন। মানুষের স্বাভাবিক হৃৎপিণ্ড যেখানে প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার স্পন্দিত হয়, সেখানে একটি হামিংবার্ডের হৃৎপিণ্ড বিশ্রামের সময় প্রতি মিনিটে ২২৫ বার এবং দ্রুত উড়ে বেড়ানোর সময় মিনিটে ১২০০ বারেরও বেশি স্পন্দিত হতে পারে। তাদের এই অত্যন্ত দ্রুত বিপাক প্রক্রিয়া এবং ছোট শরীরের কারণে ক্রমাগত শক্তির প্রয়োজন হয়, যা অক্সিজেন ও শক্তি সরবরাহের জন্য হৃৎপিণ্ডকে অতিদ্রুত কাজ করতে বাধ্য করে।

বিভিন্ন প্রজাতির হামিংবার্ডের আকৃতি ভিন্ন হয়ে থাকে। কিউবায় পাওয়া যাওয়া ‘বি হামিংবার্ড’ বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্রতম পাখি, যার ওজন মাত্র দুই গ্রাম। এত ক্ষুদ্র আকার সত্ত্বেও এর উড়ার ক্ষমতা তাক লাগানোর মতো। এরা ফুলের সামনে এক জায়গায় স্থির হয়ে ভেসে থাকতে পারে এবং পাখিদের মধ্যে একমাত্র এরাই সামনে ও পেছনে উভয় দিকে উড়তে সক্ষম। ওড়ার সময় তাদের ডানার ঝাপটানি এতটাই দ্রুত হয় যে খালি চোখে তা ঝাপসা দেখায়। ফুলের মধু এবং ছোট পোকামাকড় খেয়ে এরা শরীরে প্রচুর শক্তির জোগান দেয়।

অনেকেরই ধারণা হামিংবার্ড বুঝি খুব কম দিন বাঁচে, কিন্তু বৈজ্ঞানিক তথ্যপ্রমাণ বলছে অন্য কথা। উপযুক্ত পরিবেশে কিছু হামিংবার্ড ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকতে পারে। যেমন, নথিভুক্ত একটি ব্ল্যাক-চিনড হামিংবার্ড ১১ বছরেরও বেশি সময় বেঁচে ছিল। অবিশ্বাস্য দ্রুত বিপাকক্রিয়া সত্ত্বেও এই পাখিগুলোর দীর্ঘায়ু বিজ্ঞানীদেরও অবাক করে দেয়।