স্মার্টফোন সুরক্ষা এবার আরও দামি! টেম্পার্ড গ্লাস কেনার আগে পকেট খালি হওয়ার জোগাড় কেন?

স্মার্টফোনের ডিসপ্লে সুরক্ষিত রাখতে যে স্ক্রিন গার্ড বা টেম্পার্ড গ্লাস আমরা ব্যবহার করি, তার দাম এবার একধাক্কায় অনেকটাই বাড়তে চলেছে। স্মার্টফোনের স্ক্রিন প্রোটেক্টর এবং টেম্পার্ড গ্লাসের গুণমান নিয়ে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে একটি নতুন নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে, যার জেরে মোবাইল স্ক্রিন সুরক্ষিত রাখার খরচ সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিন মন্ত্রক গত ২১ সেপ্টেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে যে, আগামী ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকে এই নয়া নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হবে। নতুন এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্মার্টফোনের স্ক্রিন প্রোটেক্টরগুলিকে ব্যুরো অফ ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (BIS) বাধ্যতামূলক নিবন্ধন কাঠামোর আওতায় আনা হচ্ছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এবার থেকে বাজারে বিক্রি হওয়া সমস্ত স্ক্রিন প্রোটেক্টরকে নির্দিষ্ট ‘IS 19348:2025’ মানদণ্ড মেনে পরীক্ষা ও নথিভুক্ত করাতে হবে। বর্তমানে ফুটপাতের ছোট দোকান থেকে শুরু করে নামী শপিং মল—সর্বত্রই ৫০ টাকা থেকে শুরু করে কয়েক হাজার টাকার টেম্পার্ড গ্লাস সহজেই পাওয়া যায়। কিন্তু সরকারের মূল লক্ষ্য হলো নিম্নমানের সস্তা স্ক্রিন প্রোটেক্টরের পরিবর্তে উচ্চমানের ও দীর্ঘস্থায়ী ব্র্যান্ডের ব্যবহার নিশ্চিত করা। যেহেতু BIS-এর আওতায় আসার ফলে প্রস্তুতকারক ও আমদানিকারকদের পণ্যের গুণমান যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত খরচ করতে হবে, তাই ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়েই স্ক্রিন প্রোটেক্টরের দাম অনেকটা বাড়িয়ে দেবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

অবশ্য এখনই বাজার থেকে পুরোনো বা সাধারণ মানের স্ক্রিন প্রোটেক্টর পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের নতুন নিয়ম মেনে নিজেদের প্রস্তুত করার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি দাম বাড়ানোর কথা না বলা থাকলেও, কড়া মানদণ্ড পূরণ করতে গিয়ে যে খরচ বাড়বে, তার প্রভাব সরাসরি ক্রেতাদের পকেটে পড়বে। আগামী বছর ১ এপ্রিল থেকে বাজারে যে স্ক্রিন গ্লাসগুলি পাওয়া যাবে, সেগুলির অপটিক্যাল ক্লারিটি হতে হবে অত্যন্ত স্পষ্ট, গঠন হতে হবে মজবুত এবং তাতে অবশ্যই ওলিওফোবিক কোটিং (Oleo-phobic Coating) থাকতে হবে, যাতে আঙুলের ছাপ বা দাগ সহজেই পরিষ্কার করা যায়। গুণমানের এই কড়াকড়ির ফলে ফোন রক্ষা করা আরও সুরক্ষিত হলেও, সাধারণ ক্রেতাদের বাজেট যে খানিকটা ধাক্কা খাবে, তা বলাই বাহুল্য।