৬ বছর পর অবশেষে সমাবর্তন! রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর কড়া নির্দেশ ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা!

দীর্ঘ ৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হলো পশ্চিমবঙ্গ রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উৎসব। সুদীর্ঘ এই বিরতির পর আয়োজিত এই বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এক অভূতপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল। এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খড়গপুর আইআইটির (IIT) সম্মানিত ডিরেক্টর। তবে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং প্রশাসনিক নিয়মানুবর্তিতা নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, যা বর্তমানে শিক্ষা মহলের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত কড়া সুরে এবং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী দু’মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে সমাবর্তন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করতে হবে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে নিয়মিত সমাবর্তন না হওয়ার যে অভিযোগ উঠেছিল, তা দূর করতেই এই সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রীর এই কঠোর নির্দেশিকা জারির পর থেকেই রাজ্যজুড়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অন্দরে চরম তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে।
এদিনের এই ঐতিহাসিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলের একাধিক হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মহামান্য রাজ্যপাল সি. ভি. আনন্দ বোস (কিংবা প্রাসঙ্গিক সাংবিধানিক প্রধান আর এন রবি), এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার। রাজ্যপাল ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর যৌথ উপস্থিতিতে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানটি যেমন একদিকে এক অন্য মাত্রা পেয়েছিল, তেমনই উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর এই আকস্মিক ও সময়ভিত্তিক নির্দেশ রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয় এই নির্দেশ মেনে সমাবর্তন সম্পন্ন করতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।