২০২৭ হজে বিরাট পরিবর্তন! বিদেশি তীর্থযাত্রীদের জন্য এককালীন প্যাকেজ আনল সৌদি আরব!

আসন্ন ২০২৭ সালের হজ যাত্রাকে আরও সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে প্রস্তুতি শুরু করে দিল সৌদি আরব। বিদেশি তীর্থযাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত পরিষেবা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মূল লক্ষ্য হলো হজযাত্রীদের পবিত্র যাত্রা আরও সুগম ও ঝামেলাহীন করে তোলা। নতুন এই ব্যবস্থার ফলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পুণ্যার্থীরা একটিমাত্র ইলেকট্রনিক চুক্তির মাধ্যমেই সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিষেবা একসঙ্গে বুক করতে পারবেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বিশেষ প্যাকেজটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল উপায়ে দেশটির নির্ধারিত ইলেকট্রনিক ‘পাথ’ (Path) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে উপলব্ধ করা হবে। এর মাধ্যমে তীর্থযাত্রীদের সৌদি আরবে পা রাখা থেকে শুরু করে সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়া পর্যন্ত যাবতীয় ব্যবস্থাপনা একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে চলে আসবে। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই প্যাকেজে চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত থাকছে—যথা পবিত্র স্থানগুলিতে প্রয়োজনীয় পরিষেবা, মক্কা ও মদিনায় থাকা-খাওয়ার সুব্যবস্থা, অভ্যন্তরীণ পরিবহন এবং খাদ্য ও পানীয়। পাশাপাশি, তীর্থযাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে কিছু ঐচ্ছিক ও অতিরিক্ত সুবিধাও রাখা হয়েছে।

এই ডিজিটাল উদ্যোগের ফলে বিদেশি হজ বিষয়ক কার্যালয় ও অনুমোদিত সংস্থাগুলো আরও নমনীয়ভাবে নির্দিষ্ট দলের জন্য পৃথক কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সাজাতে পারবে। উল্লেখ্য, ২০২৭ সালের হজের (১৪৪৮ হিজরি) জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে সৌদি প্রশাসন। এর অংশ হিসেবে বিশ্বের ৭৫টিরও বেশি দেশের হজ বিষয়ক প্রতিনিধি দলগুলোর সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও শুরু হয়েছে। যেখানে অপারেশনাল পরিকল্পনা, নিয়মাবলী ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সৌদি আরবের সুদূরপ্রসারী ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ‘পিলগ্রিম এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম’-এর সঙ্গে সংগতি রেখেই এই অভিনব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পবিত্র হজ পালন করতে আসা কোটি কোটি মানুষের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত ও সমৃদ্ধ করা। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সৌদি আরব তাদের ডিজিটাল হজ পরিকাঠামোকে ব্যাপক পরিমাণে প্রসারিত করেছে। ভিসা প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে অপারেশনাল কার্যক্রম ও চুক্তি স্বাক্ষর—সবকিছুই এখন একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হয়েছে, যা তীর্থযাত্রী ও সেবা প্রদানকারী—উভয়ের জন্যই কাজকে অত্যন্ত সহজ করে তুলেছে।