১৯৬২ ও ১৯৬৫-র যুদ্ধজয়ী সেনাকর্তা থেকে রাজনীতিবিদ— প্রয়াত হিমাচল প্রদেশের হেভিওয়েট নেতা!

হিমাচল প্রদেশের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা। রাজ্যের পাঁচবারের বিধায়ক এবং দু’বারের মন্ত্রী মেজর বিজয় সিং মনকোটিয়া প্রয়াত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে কাংড়ার পৈতৃক গ্রাম তিয়ারায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ফোর্টিস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। পথেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি এবং হাসপাতালেই পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি কংগ্রেস ও বিজেপি—উভয় দলের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। একসময় বীরভদ্র সিংয়ের ঘোর বিরোধী হিসেবে পরিচিত মনকোটিয়া ২০২৪ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে বীরভদ্র সিংয়ের বিরুদ্ধে একটি পুরোনো আর্থিক লেনদেনের সিডি প্রকাশ করে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন তিনি, যদিও পরবর্তীকালে সেই মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বেকসুর খালাস পান।

সেনা থেকে রাজনীতি—মেজর মনকোটিয়ার জীবন ছিল বহুমুখী কৃতিত্বে ভরপূর্ণ। ১৯৫৯ সালে ইউপিএসসি (UPSC) পরীক্ষায় সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান অর্জন করে ১৯৬০ সালে দেরাদুনের ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে (IMA) ভর্তি হন তিনি। ১৯৬২ সালের ঐতিহাসিক প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে আইএমএ-র কন্টিনজেন্টের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তিনি ছিলেন শেষ ক্যাডেট কমান্ডার। ১৯৬২ সালের জুনে প্রশিক্ষণ শেষে মর্যাদাপূর্ণ ‘সোর্ড অফ অনার’ ও গোল্ড মেডেল পান এবং গোর্খা রাইফেলসে কমিশন লাভ করেন।

তিনি ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ, ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ এবং ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ যুদ্ধে বীরত্বের সঙ্গে অংশ নেন। ১৯৭৬ সালে নির্ধারিত সময়ের আগেই সেনা থেকে অবসর নেন। পরবর্তীতে জেআরডি টাটার আমন্ত্রণে এয়ার ইন্ডিয়ায় পাঁচ বছর চাকরি করেছিলেন তিনি। ১৯৮২ সালে রাজনীতিতে পা রেখে শাহপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্দল প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধায়ক হন। পরে পর্যটন, অসামরিক বিমান পরিবহণ ও আইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব সামলান। এছাড়া তিনি ‘দ্য প্যাটার্নস অফ ডেস্টিনি’, ‘টার্ময়েল’ এবং ‘আপহিভাল’—এই তিনটি বইও লিখেছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী জয়শ্রী কুমারী এবং দুই সন্তান সূর্যবীর সিং ও সংযুক্তা কুমারীকে রেখে গেছেন।