গ্যাস চেম্বার হতে চলেছে রাজধানী! দূষণ রুখতে ওয়ার্ক ফ্রম হোম থেকে পেট্রোল পাম্পে কড়া নিয়ম—কী বলছে দিল্লি সরকার?

দিল্লিকে বিষাক্ত গ্যাস চেম্বার হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে এবার নড়েচড়ে বসল সরকার। শীতের মরশুমে রাজধানীর বিপজ্জনক বায়ুস্তর ও তীব্র যানজট নিয়ন্ত্রণে একটি ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে দিল্লি প্রশাসন। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীতে যানবাহনের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমানো এবং গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়াতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি উভয় দপ্তরে ৫০ শতাংশ কর্মীর জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (বাড়ি থেকে কাজ) বাধ্যতামূলক করা, ডিউটির সময়ে বড়সড় পরিবর্তন এবং শহরের সমস্ত পার্কিংয়ের ফি এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত।

দিল্লির ক্রমবর্ধমান দূষণ পরিস্থিতি ও ট্রাফিক জ্যাম মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। এই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, দিল্লির অ্যানিম্যাল নম্বর প্লেট রিকগনিশন (ANPR) ক্যামেরা সংবলিত সমস্ত পেট্রোল পাম্পে কঠোরভাবে পিইউসিসি (PUCC) পরীক্ষা করা হবে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, বৈধ পলিউশন আন্ডার কন্ট্রোল সার্টিফিকেট বা পিইউসি না থাকলে কোনো গাড়িতেই জ্বালানি বা পেট্রোল-ডিজেল দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে, আগামী ১ নভেম্বর, ২০২৬ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭ পর্যন্ত শহরের সমস্ত পার্কিং চার্জ দ্বিগুণ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া, সরকারি কাজকর্মের সুষম বণ্টনের জন্য মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অফ দিল্লি (MCD)-র অধীনস্থ অফিসগুলির সময় সকাল ৮:৩০ থেকে বিকেল ৫:০০ টা এবং এনসিটিডি (GNCTD)-র অধীনস্থ অফিসগুলির সময় সকাল ১০:০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৬:৩০ টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি উভয় অফিসেই ৫০ শতাংশ কর্মী বাড়ি থেকে কাজ করবেন এবং বাকি ৫০ শতাংশ কর্মী অফিসে উপস্থিত থাকবেন। মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, এই দূরদর্শী পরিকল্পনা কেবল দিল্লির সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে না, বরং সমগ্র জাতীয় রাজধানী অঞ্চল বা এনসিআর (NCR) জুড়েই এটি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, সাধারণ মানুষকে মেট্রো ও বাসের মতো গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করতে সপ্তাহে একদিন ‘গণপরিবহন দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দিল্লির পরিবেশ মন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা জানিয়েছেন, বায়ুর গুণমান ও তীব্র যানজটের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত ৩৭টি হটস্পট এলাকা ২৪ ঘণ্টা নজরদারির মধ্যে রাখা হবে। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিধায়কেরা নিয়মিত এই অঞ্চলগুলি পরিদর্শন করবেন। এছাড়া, ধূলিদূষণ কঠোরভাবে রোধ করতে আগামী ১ নভেম্বর থেকে রাজধানীতে সমস্ত ধরণের নির্মাণ ও ভাঙার কাজ পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখা হবে এবং প্রতিটি সাইট সিসিটিভির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।