হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ! পুলিশি আটকের পরই তেজী হুঙ্কার ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নেতার

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে ফের সরব হলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র শীর্ষ নেতা আশুতোষ রাঙ্কা। তথাকথিত “বেআইনি আটক” থেকে মুক্তি পাওয়ার পরেই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে সরাসরি নিশানা করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। স্কুল শিক্ষার করুণ দশা, কাজিরাঙায় আদিবাসীদের অধিকার হরণ এবং আসন্ন নির্বাচনের ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্নির্ধারণের মতো বিতর্কিত বিষয়গুলি জনসমক্ষে তুলে ধরার অপরাধেই তাঁদের হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

রবিবার অসমের বিরোধী দল ‘অসম জাতিয় পরিষদ’ (এজেপি)-র নেত্রী কুঙ্কি চৌধুরীর বাসভবনে একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই আশুতোষ রাঙ্কা সহ ৪০ জনেরও বেশি সিজেপি স্বেচ্ছাসেবককে আকস্মিকভাবে আটক করে অসম পুলিশ। এরপর তাঁদের সোজা কাহিলিপাড়া এলাকার দশম আসাম পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে আটকের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ বা আইনি নোটিশ পুলিশ প্রশাসন দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছেন আটক ব্যক্তিরা।

মুক্তির পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ ক্ষোভ উগরে দিয়ে রাঙ্কা লেখেন, “অসম পুলিশের এই বেআইনি আটকের অবসান ঘটেছে। আমরা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছি আমাদের যেন ঠিক সেই இடেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যেখান থেকে জোর করে তুলে আনা হয়েছিল।” সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আরশোলাদের ভয় পান, আর তাই আমাদের কণ্ঠরোধ করতে পুলিশকে ব্যবহার করেছেন। তিনি ভুলে গেছেন এটা জুবিন গর্গের ভূমি, যেখানে ন্যায়ের জন্য লড়াই করতে কেউ পিছপা হয় না।”

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এনসিপি (এসপি)-র মুখপাত্র অনীশ গাওয়ান্ডে একে ‘জঙ্গল রাজ’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, কোনো রকম আইনি প্রক্রিয়া বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই সম্পূর্ণ অসাংবিধানিকভাবে একটি ব্যক্তিগত বাসভবন থেকে সিজেপি স্বেচ্ছাসেবকদের তুলে আনা হয়েছিল। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনার পর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সিজেপি-র আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।