মানসিক চাপ ও উদ্বেগ থেকে মুক্তি! মাত্র ৩০ সেকেন্ডের ‘মাইক্রোপ্র্যাকটিস’ বদলে দিতে পারে আপনার দিন

আজকের ব্যস্ত জীবনে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। নিজেকে চাপমুক্ত ও মানসিকভাবে চাঙ্গা রাখতে সবসময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় বের করার প্রয়োজন হয় না। সাম্প্রতিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মাত্র ৩০ সেকেন্ড থেকে শুরু করে কয়েক মিনিটের ছোট ও সহজ কিছু অনুশীলন, যা ‘মাইক্রোপ্র্যাকটিস’ নামে পরিচিত, আমাদের মুড, শক্তির মাত্রা এবং মানসিক সুস্থতা নাটকীয়ভাবে উন্নত করতে পারে।
নেদারল্যান্ডসের ডেলফ্ট ইউনিভার্সিটি অফ টেকনোলজির গবেষক ন্যাটালি ভ্যান ডের ওয়ালের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় এমনই এক মজার অভিজ্ঞতার কথা সামনে এসেছে। একটি লাফটার ইয়োগা সেশনে অংশ নিয়ে দেখা যায়, কোনো কৌতুক ছাড়াই কৃত্রিমভাবে শুরু করা হাসি কীভাবে কিছুক্ষণের মধ্যে সত্যিকারের হাসিতে রূপ নেয়। গবেষণা বলছে, কৌতুক ছাড়া এই ধরনের হাসি বিষণ্ণতা ও উদ্বেগ কমাতে কৌতুকপূর্ণ হাসির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ কার্যকর। প্রথমে তিনবার গভীর শ্বাস নিয়ে পেটের ওপর হাত রেখে ইচ্ছে করে “হি হি হি, হা হা হা” শব্দে শুরু করে এই ব্যায়াম করা যায়।
এর পাশাপাশি রয়েছে ‘মাইক্রো ইয়োগা’, যা দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় স্ক্রিনের সামনে বসে কাজ করার ফলে পিঠ ও কাঁধে তৈরি হওয়া পেশির টান দূর করতে অত্যন্ত কার্যকরী। প্রতি ১৫ মিনিট পর পর মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের জন্য শরীর প্রসারিত বা স্ট্রেচ করলে কাজের দক্ষতা প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করতে ধীরগতির শ্বাস-প্রশ্বাস বা ‘স্লো ব্রিডস্’-এর জুড়ি মেলা ভার। মাত্র তিনটি ধীর ও গভীর শ্বাস নিলে মস্তিষ্কের আলফা ও থিটা তরঙ্গ বৃদ্ধি পায়, যা দ্রুত মনকে শান্ত ও গভীর শিথিলতা আনতে সাহায্য করে।
শেষে আসে আত্ম-সহানুভূতিশীল স্পর্শের মতো মানসিক প্রশান্তির পদ্ধতি। মাত্র ২০ সেকেন্ডের একটি সহজ ‘নিজেকে শান্ত করার স্পর্শ’ অনুশীলনের মাধ্যমে শরীরে স্ট্রেস হরমোন ‘কর্টিসল’-এর মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বুক বা বাহুর ওপর আলতো করে হাত রেখে নিজের প্রতি সদয় চিন্তাভাবনা করলে দীর্ঘমেয়াদে মানসিক শান্তি বজায় থাকে। তাই ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে নিজের জন্য মানানসই যেকোনো একটি ছোট্ট অভ্যাস বেছে নিয়ে প্রতিদিনের রুটিনে যুক্ত করলেই মিলবে দারুণ ফল।