বন্যায় ডুবছে একের পর এক জেলা! গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশে প্রকৃতির তাণ্ডবে ধ্বংস শত শত বাড়ি

নিম্নচাপের জেরে সৃষ্ট প্রবল বৃষ্টিপাতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরপ্রদেশ। গত ২৪ ঘণ্টার প্রাকৃতিক দুর্যোগে রাজ্যে কমপক্ষে ১০ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন। লখিমপুর খেরি, আমেঠি, বারাবাঙ্কি এবং গোরখপুর সহ রাজ্যের প্রায় ৬৩টি জেলায় স্বাভাবিকের তুলনায় অস্বাভাবিক পরিমাণে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার উত্তরপ্রদেশে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ১৯ গুণ বেশি বৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে একাধিক জেলায় ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রলয়ংকরী ঝড়বৃষ্টি ও দুর্যোগে রাজ্যজুড়ে প্রায় ১১৭টি কাঁচা ও পাকা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় মাটির দেওয়াল ধসে চাপা পড়ে পাঁচজন এবং বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে আরও পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন। শুধুমাত্র গোরখপুর জেলাতেই গাছ চাপা পড়ে চারজনের মৃত্যু এবং ১৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ঝোড়ো হাওয়ায় বহু এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে জেলা প্রশাসন একাধিক এলাকায় স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে।

মৌসম ভবনের বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২১ ঘণ্টায় লখনউয়ে ১২৫.৮ মিলিমিটার, বাঁদায় ২২৭.৬ মিলিমিটার, ফতেহগড়ে ২২৪ মিলিমিটার, বাহরাইচের নানপাড়ায় ২১৭ মিলিমিটার, হরদইয়ে ২১৪ মিলিমিটার, হামিরপুরে ২১০ মিলিমিটার এবং কান্নৌজে ২০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, নিম্নচাপের এই প্রভাব এখনও কাটেনি। রবিবারও উত্তরপ্রদেশের সমস্ত জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির হলুদ ও কমলা সতর্কতা জারি রয়েছে। বেশ কিছু নিচু এলাকায় নতুন করে জল জমে বন্যার রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যজুড়ে চরম সতর্কতা জারি করেছে প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হতে বারণ করা হয়েছে।