দেশি পর্যটকদের ঢল, তবুও কপালে চিন্তার ভাঁজ! বিশ্ব পর্যটন দিবসে রাজস্থান থেকে এল কোন চাঞ্চল্যকর তথ্য?

বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রাজস্থানের রাজকীয় দুর্গ, প্রাসাদ ও জাদুঘরগুলি বর্তমানে সেজে উঠেছে এক অপরূপ সাজে। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের রাজস্থানী ঐতিহ্য মেনে জাঁকজমকপূর্ণভাবে স্বাগত জানানো হচ্ছে। আমের, নাহারগড়, হাওয়া মহল ও জন্তর মন্তরের মতো প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে কালবেলিয়া, কাচি ঘোড়ি, পুতুলনাচ এবং বহুরূপিয়ার মতো মনোমুগ্ধকর লোকশিল্পের পসরা সাজানো হয়েছে। পর্যটকদের আকর্ষিত করতে আজ রাজ্যের সমস্ত সংরক্ষিত স্মৃতিস্তম্ভে প্রবেশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাখা হয়েছে। কিন্তু এই চোখ ধাঁধানো উদযাপনের অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে এমন কিছু পরিসংখ্যান, যা একদিকে যেমন রাজস্থান পর্যটনের অসামান্য সাফল্যকে ফুটিয়ে তুলছে, অন্যদিকে তেমনই এর কিছু গুরুতর প্রতিবন্ধকতাকেও সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে।

করোনা মহামারী কাটিয়ে রাজস্থান পর্যটন শিল্পে এক অভাবনীয় উল্লম্ফন দেখা গেছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে যেখানে মাত্র ২.২ কোটি পর্যটক এসেছিলেন, সেই সংখ্যাটি লাফিয়ে বেড়ে ২০২৫ সালে এসে পৌঁছেছে রেকর্ড ২৫.৪৪ কোটিতে। অর্থাৎ মাত্র চার বছরের ব্যবধানে পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ১১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে শুধু দেশি পর্যটকের সংখ্যাই ২৫.২৫ কোটিতে পৌঁছেছে। তবে মুদ্রার অন্য পিঠে রয়েছে এক উদ্বেগের চিত্র। একদিকে দেশি পর্যটকদের রেকর্ড ভাঙা ভিড় দেখা গেলেও, বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা সামান্য হ্রাস পেয়েছে। ২০২৪ সালে যেখানে ২০.৭২ লক্ষ বিদেশি পর্যটক এসেছিলেন, ২০২৫ সালে তা কমে ১৯.৪৫ কোটিতে নেমে এসেছে। পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জয়সলমের দুর্গ, হাওয়া মহল ও আমের দুর্গ। গত পাঁচ মাসে শুধুমাত্র জয়পুরের পাঁচটি প্রধান স্মৃতিস্তম্ভ থেকে ২২.৫১ কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আদায় হয়েছে, যার মধ্যে একাই আমের দুর্গ ১১.০৬ কোটি টাকা আয় করেছে।

তবে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো তাদের রাজ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখা এবং মৌলিক পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটানো। পর্যটকরা কতদিন অবস্থান করছেন এবং জয়পুর-উদয়পুরের বাইরে অন্য জেলাগুলিতে যাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনস্রোত পার্কিং, নিকাশি ব্যবস্থা এবং অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধার ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। এই সমস্যা সমাধানে এবং পর্যটনকে কেবল দুর্গ ও প্রাসাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বিস্তৃত করতে সরকার ৫,০০০ কোটি টাকার একটি বিশাল পর্যটন উন্নয়ন তহবিল গঠন করেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ৮৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে ২৭৬ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে এবং ৪৬২টি নতুন প্রকল্প থেকে ৭,৬০৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ ও ২২,০০০-এর বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্য পর্যটনের পাশাপাশি ধর্মীয় ও চলচ্চিত্র পর্যটনকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটন থেকে আসা এই বিপুল অর্থ যাতে স্থানীয় শিল্পী, গাইড ও ছোট ব্যবসায়ীদের হাতে পৌঁছায় এবং পরিকাঠামোগত ভারসাম্য বজায় থাকে, তবেই এই সাফল্যের ধারা দীর্ঘস্থায়ী হবে।