পুলিশি অ্যাকশনের পর কেমন আছে শতবর্ষের গালিফ স্ট্রিট? রবিবার সকালেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর ছবি!

কলকাতার শতবর্ষ প্রাচীন গালিফ স্ট্রিটের পোষ্য ও পাখির হাট এই রবিবারেও বেশ ফাঁকা ফাঁকা। গত সপ্তাহে, অর্থাৎ ২০ সেপ্টেম্বর গালিফে হঠাৎ হানা দিয়েছিল কলকাতা পুলিশ। সেসময় অবৈধ ব্যবসায়ীদের হাট থেকে তুলে দেওয়া হয় এবং স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয় যে, কেবল বৈধ ট্রেড লাইসেন্স যাঁদের রয়েছে, শুধুমাত্র তাঁরাই এখানে ব্যবসা করতে পারবেন। সেই ঘটনার এক সপ্তাহ পর, ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার সকালেও গালিফ হাটে সেই একই ছবি দেখা গেল।

আজ হাট খোলা রয়েছে কি না, তা নিয়ে মানুষের মনে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। আজ রবিবার গালিফ স্ট্রিটের পোষ্য হাট নির্দিষ্ট নিয়মেই খোলা রয়েছে। তবে সকাল ৯টা পর্যন্ত দেখা গিয়েছে যে, হাটে দোকান বসেছে অনেক কম এবং ক্রেতার সংখ্যাও বেশ স্বল্প।

হাটের ভেতরের চিত্রটা ঠিক কেমন? মূলত হাটের শেষের দিকে থাকা গাছপালা ও উদ্ভিদের ব্যবসায়ীরা প্রায় স্বাভাবিক সংখ্যাতেই তাঁদের দোকান খুলেছেন। তবে রঙিন মাছের দোকান তুলনামূলকভাবে অনেকটাই কম। বিশেষ করে যারা রাস্তার ওপরে পসরা সাজিয়ে বসতেন, সেই মাছ ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত। হাটে উপস্থিত এক ক্রেতা জানান, কার্যত ৫০ শতাংশ মাছের দোকানও এদিন বসেনি।

অন্যদিকে, সবচেয়ে করুণ দশা পাখির দোকানগুলির। হাটে ঢোকার মুখে বা দিকে যে সারি দিয়ে পাখির দোকান থাকত, তার মধ্যে এখন হাতে গোনা কয়েকটি মাত্র দোকান দেখা যাচ্ছে, তাও আবার নির্দিষ্ট সীমানার ভেতরে। তবে পোষ্য কুকুর বিক্রির দোকানগুলি খোলা রয়েছে বলে খবর মিলেছে।

ঠিক কী কারণে এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছিল প্রশাসন? স্বাধীনতার অনেক আগে থেকেই কলকাতার এই ঐতিহ্যবাহী হাট বসে আসছে। যদিও শুরুর দিকে গালিফ স্ট্রিটে এই হাট বসত না, পরবর্তীতে এটি এখানেই স্থানান্তরিত হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে যে, এই হাটের বেশিরভাগ ব্যবসায়ীই চোরাগোপ্তাভাবে কোনো ধরনের লাইসেন্স ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

এই পরিস্থিতির পরেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশে এবং পুলিশের সক্রিয় উপস্থিতিতে গত রবিবার হাট থেকে সিংহভাগ অবৈধ দোকান তুলে দেওয়া হয়। মূলত বিপন্নপ্রায় পশু-পাখির চোরাচালান এবং অবৈধ ব্যবসা কঠোরভাবে রুখতে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই মামলা দায়ের করেছিল। আদালতের নজরে আসে যে, এই ঐতিহ্যবাহী হাটের আড়ালে বিরল প্রজাতির পাখি ও বন্যপ্রাণী পাচার করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুতর ঠেকায় আদালত প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেয়, যার প্রভাব এখনও স্পষ্ট রবিবারের গালিফ হাটের চেহারায়।