সাধারণ মানুষের বাজেট কি তবে কমছে? বর্ষার মরশুমে আবাসন বাজারে বিরাট ধস, কোন কোন শহরে পতন সবচেয়ে বেশি?

দেশের আবাসন বাজারে বড়সড় ধাক্কা। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বর্ষার মরশুমের মந்த গতির জেরে চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে দেশের শীর্ষ ৯টি প্রধান শহরে ফ্ল্যাট ও বাড়ি বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। প্রখ্যাত রিয়েল এস্টেট ডেটা কোম্পানি ‘প্রপইকুইটি’-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচ্য ত্রৈমাসিকে এই শহরগুলিতে সামগ্রিক আবাসন বিক্রি প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১,০৩,১৭০ ইউনিটে এসে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ১,০৯,৪২০ ইউনিট।

কোন কোন শহরে পতন, কোথায় বা বাড়ল বিক্রি? প্রপইকুইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের সবকটি বড় শহরে আবাসন বিক্রির চিত্রটা এক রকম নয়। বড় শহরগুলির মধ্যে মুম্বাই, পুনে, দিল্লি-এনসিআর এবং চেন্নাইয়ের মতো জায়গায় বাড়ি বিক্রিতে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে।

  • কোথায় কমেছে বিক্রি: গত বছরের তুলনায় পুনেতে আবাসন বিক্রি ১৬ শতাংশ কমে ১৭,৮৬০ ইউনিটে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া দিল্লি-এনসিআর এলাকায় বিক্রি ১২ শতাংশ কমে হয়েছে ৮,০৯০ ইউনিট। চেন্নাই ও কলকাতায় বিক্রি ১৭ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। মুম্বাইয়ে বিক্রি ৮ শতাংশ কমে ৯,৮৩০ ইউনিট এবং থানেতে বিক্রি ১১ শতাংশ কমে ১৬,২৩০ ইউনিটে নেমে এসেছে।

  • কোথায় বিক্রি বেড়েছে: মন্দার বাজারেও ব্যতিক্রমী ছবি দেখা গেছে বেঙ্গালুরু এবং হায়দ্রাবাদে। বেঙ্গালুরুতে বাড়ি বিক্রি সামান্য ১ শতাংশ বেড়ে ১৭,৩৪০ ইউনিট হয়েছে। পাশাপাশি হায়দ্রাবাদে ১১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়াল ১৫,৪৭০ ইউনিটে। এছাড়া নভি মুম্বাইয়েও বিক্রি ১২ শতাংশ বেড়ে ৯,৮১০ ইউনিট হয়েছে।

নতুন সরবরাহ কমল কেন? প্রতিবেদন অনুসারে, আলোচ্য ত্রৈমাসিকে নতুন বাড়ি বা প্রজেক্টের সরবরাহ (New Launch) গত বছরের ১,০০,৩৩০ ইউনিট থেকে কমে ৯৮,১৬৫ ইউনিটে নেমে এসেছে। সাধারণত বর্ষার সময়ে বৃষ্টির কারণে রিয়েল এস্টেট ডেভেলপাররা নতুন কোনো আবাসন প্রকল্প চালু করতে কিছুটা পিছপা হন, যা সামগ্রিক বাজারে প্রভাব ফেলে।

তবে আশার কথা হলো, সামনেই উৎসবের মরশুম শুরু হচ্ছে। এই সময়ে গৃহ ক্রেতাদের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তাই ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ডেভেলপাররা নানা ধরনের আকর্ষণীয় অফার এবং ছাড় নিয়ে হাজির হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ ও বিক্রির হার ফের ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।