তুমুল গৃহযুদ্ধ ও বিতর্কের মাঝেই নির্বাচন কমিশনের মেগা বৈঠক! নেওয়া হলো ১৩টি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত

সংস্থাসমূহের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রেগুলেশন’ (এসআইআর) সংক্রান্ত বিতর্ক ঘিরে যখন তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি, তখনই তড়িঘড়ি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। শনিবার দুপুর ৩টায় নয়াদিল্লির ‘নির্বাচন সদনে’ প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার—সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক শেষে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে মোট ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

কমিশনের অভ্যন্তরে সংঘাতের খবর ও স্পষ্টীকরণ: সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের বহু সিদ্ধান্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার একতরফাভাবে নিয়েছেন এবং তা নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন অন্য দুই কমিশনার সান্ধু ও জোশী।

এই জল্পনার জবাবে কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দেশজুড়ে এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্তই সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, ক্যাবিনেট সচিবকে লেখা বিতর্কিত চিঠির বিষয়ে কমিশনের ব্যাখ্যা, এটি আয়কর নীতি সংক্রান্ত কোনো বিষয় ছিল না; বরং ডেপুটেশনে থাকা এক প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যপরিচালনা সম্পর্কিত ছিল। আয়কর বিভাগের ওপর কমিশনারদের তদারকি কোনোদিন প্রত্যাহার করা হয়নি বলেও সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

জনসাধারণ ও ভোটারদের জন্য স্বস্তির বার্তা: এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নাগরিক সাধারণের হয়রানি কমাতে বেশ কিছু বৈপ্লবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন:

  • বাড়িতে যাবেন বিএলও: এসআইআর নোটিশ প্রাপ্ত ব্যক্তিদের আর হয়রান হতে হবে না, নথি সংগ্রহের জন্য বিএলওরা (বুথ লেভেল অফিসার) সরাসরি তাঁদের বাড়িতে যাবেন। বিশেষ ক্ষেত্রে শুনানি প্রক্রিয়া হবে অনলাইনে।

  • দরিদ্র ও গৃহহীনদের জন্য কেন্দ্র: রাতের আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দা, পরিযায়ী শ্রমিক ও দরিদ্র ভোটারদের নাম নথিবদ্ধ করতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা (ডিইও) বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করবেন।

  • বাদ পড়াদের জন্য বিশেষ ড্রাইভ: এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সম্পন্ন হওয়ার পর কোনো বৈধ নাগরিকের নাম বাদ পড়লে তা দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করতে দেশজুড়ে বিশেষ প্রচার অভিযান চালানো হবে।

নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে প্রশাসনিক সংস্কার: বৈঠকে কমিশনের অভ্যন্তরীণ কাজকর্মে স্বচ্ছতা আনতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে: ১. আলোচ্যসূচি পেশ বাধ্যতামূলক: এখন থেকে কমিশনের যে কোনো সভার আগে সমস্ত কমিশনারের কাছে বৈঠকের আলোচ্যসূচি (অ্যাজেন্ডা) পাঠাতে হবে এবং সভার পর বাধ্যতামূলকভাবে কার্যবিবরণী (মিনিটস) জারি করতে হবে। ২. বিদেশ ভ্রমণে লাগাম: নির্বাচন কমিশনের যে কোনো কর্মকর্তার বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে এখন থেকে আগেভাগেই কমিশনের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে। ৩. ইসিআইনেট রিভিউ: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘ECINET’-এর সার্বিক পর্যালোচনা করতে ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার (ডিইসি) এবং আইআইটি/আইআইএম-এর প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারসহ ২০টি রাজ্যে ইতিমধ্যেই প্রথম ও দ্বিতীয় পর্বের এসআইআর সম্পন্ন হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট করেছে যে, অবশিষ্ট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটার তালিকার চূড়ান্ত প্রকাশের পরেই দেশে ভোটার উপস্থিতির হার সম্পর্কিত চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হবে।