হাসপাতাল থেকে বের হতেই ঘেরাও! দীর্ঘ ১০ বছর পুরোনো মামলায় ইডি-র মুখোমুখি প্রবীণ মুখ্যমন্ত্রী, তোলপাড় রাজনীতি

নির্বাচন সামনে আসতেই উত্তরাখণ্ড রাজনীতিতে হঠাৎ পারদ চড়ল। ২০১৬ সালের একটি পুরোনো নিয়োগ কেলেঙ্কারি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র তলব পেয়ে শনিবার দপ্তরে হাজিরা দিলেন উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াত। ইডি-র টানা জিজ্ঞাসাবাদের পর বাইরে বেরিয়ে শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুললেন তিনি।

“অভিজ্ঞতা ছিল মিষ্টি ও হতাশাজনক”: দীর্ঘ সময় ইডি কর্তাদের প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পর দপ্তর থেকে বেরিয়ে হরিশ রাওয়াত একপ্রকার খোঁচা দিয়েই বলেন, “আজকের এই অভিজ্ঞতা ছিল কিছুটা মধুর, কিছুটা রোমাঞ্চকর আর কিছুটা হতাশাজনক। বর্তমান সরকার যদি কেবল প্রতিহিংসার বশে কাজ করতে থাকে, তাহলে দেশ চলবে কীভাবে? আমরা নিজেদের নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তিত নই, আমরা চিন্তিত দেশ ও সমাজকে নিয়ে।”

বিজেপিকে নিশানা করে প্রবীণ এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আরও যোগ করেন, “সবকিছুই রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মনোভাব থেকে করা হচ্ছে। শুধু ইডি অফিস আমাকে ডেকে পাঠায়নি; আসলে বিজেপি সরকার, তাদের অহংকার এবং সামনে আসা নির্বাচনের ভয়ই আমাকে এখানে আসতে বাধ্য করেছে।”

অসুস্থ শরীর নিয়েও হাজিরা, বিজেপির ভয়েই কি পদক্ষেপ? এদিকে ইডি-র এই পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হরিশ রাওয়াতের ছেলে তথা কংগ্রেস নেতা বীরেন্দ্র রাওয়াত। বাবা অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও এই রাজনৈতিক হেনস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “একজন মানুষ গত তিন মাস ধরে হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর সুস্থ হয়ে সবে বাড়ি ফিরেছেন। দু’দিনও ঠিকমতো বাইরে বেরোননি। কিন্তু ওঁর বিপুল জনসমর্থন দেখে বিজেপি সরকার কতটা আতঙ্কিত, এই পদক্ষেপেই তা স্পষ্ট।”

বীরেন্দ্র রাওয়াত আরও প্রশ্ন তোলেন, “যে মামলাটি ২০১৬ সালের এবং যার তদন্ত সেই সময়ই সম্পন্ন হয়ে দোষীদের সাজা হয়েছিল, ভোটের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকতে হঠাৎ সেই ফাইল আবার খোলা হচ্ছে কেন? জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্যই বিজেপির এই ব্যর্থ চেষ্টা।”

কোন মামলায় জড়াল প্রবীণ নেতার নাম? ২০১৬ সালে উত্তরাখণ্ড সাবঅর্ডিনেট সার্ভিসেস সিলেকশন কমিশন (UKSSSC) পরিচালিত ভিলেজ পঞ্চায়েত ডেভেলপমেন্ট অফিসার (VPDO) নিয়োগ পরীক্ষায় ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের সূত্র ধরেই হরিশ রাওয়াতকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

উল্লেখ্য, চলতি সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখে এই সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে দেরাদুনের একাধিক স্থানে অভিযান চালায় ইডি। তল্লাশি চালানো হয় হরিশ রাওয়াতের প্রাক্তন ওএসডি (OSD) তথা বর্তমান ব্যক্তিগত সহকারী চন্দন সিং জিনার বাড়িতেও। সেখান থেকে পাওয়া সূত্রের ভিত্তিতেই শনিবার প্রবীণ কংগ্রেস নেতাকে তলব করে জেরা করেন আধিকারিকরা।

ভোটাভুটির মুখে ইডি-র এই সক্রিয়তা উত্তরাখণ্ডের রাজনীতিতে কংগ্রেস বনাম বিজেপির লড়াইকে যে আরও তীব্র করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।