“রাহুল গান্ধীকে পছন্দ করি…”— উল্টো পথে হেঁটে কংগ্রেসে যোগ সাদা-কালো প্রধানের, সংকটে পড়বে ক্লাব?

গঙ্গার জল রাজনীতির দিকে কতটা গড়াচ্ছে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জল্পনা ময়দানে। কিন্তু এবার কলকাতা ময়দানের চেনা সমীকরণ ভেঙে সম্পূর্ণ উল্টো পথে হাঁটলেন মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি গজল জাফর। শাসকদলের দিকে না হেঁটে শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে হাত শিবিরে যোগ দিলেন তিনি।

শনিবার দুপুরে দলীয় কার্যালয়ে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক প্রকাশ জোশির উপস্থিতিতে নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটিতে যোগ দেন গজল জাফর। দীর্ঘদিন ধরে সাদা-কালো শিবিরের সঙ্গে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন তিনি। ক্লাবের সহ-সভাপতি ও সচিবের দায়িত্ব সামলানোর পর বর্তমানে তিনি সভাপতির চেয়ারে আসীন। এর আগে এই চেয়ারে ছিলেন রাজনীতিক হুমায়ুন কবীর। তবে গজল জাফরের মতো ময়দানের প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তিত্বের হাত ধরে হাত শিবিরের সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

কেন এই হঠাৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত? রাজ্যের ক্রীড়া ক্ষেত্রে সাধারণত শাসকদলের ঘনিষ্ঠদের দাপট বেশি দেখা গেলেও গজল জাফর কংগ্রেসকে বেছে নেওয়ায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাওয়া হলে সাদা-কালো সভাপতি স্পষ্ট জানান, “আমি রাহুল গান্ধীকে ভীষণ পছন্দ করি। ওঁর মতাদর্শ এবং কথাবার্তা আমায় গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। সেই অনুপ্রেরণা থেকেই কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।”

ক্লাবের আর্থিক অনুদান নিয়ে ধোঁয়াশা: মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব বর্তমানে বেশ কিছুটা আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বারবার ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারের সাহায্য নিতে তারা এক পায়ে রাজি। এমন এক সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ক্লাবের সভাপতি বিরোধী দলে যোগ দেওয়ায় রাজ্য সরকারের অনুদান কিংবা স্পন্সর পাওয়ার ক্ষেত্রে কি কোনো প্রভাব পড়বে?

এই আশঙ্কার কথা একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন ক্লাব সভাপতি। তিনি বলেন, “ক্লাব পরিচালনার সঙ্গে ব্যক্তির রাজনীতিকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক নয়। ক্লাবের সঙ্গে রাজনীতির কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই। রাজ্য সরকার যদি সাহায্য বা স্পন্সর নিয়ে আসতে আমাদের পাশে দাঁড়ায়, আমরা তা খোলা মনে গ্রহণ করব। আমরা চাই ক্লাব যেন সুন্দরভাবে এগিয়ে চলে।”

কংগ্রেসের ঘরে নতুন আশা: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, গজল জাফরের মতো ময়দানি মুখকে কাছে পেয়ে বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটব্যাঙ্কে নিজেদের অবস্থান বেশ শক্ত করতে পারবে কংগ্রেস। তবে রাজনীতি আর ফুটবল এক সুতোয় বাঁধা পড়লেও সাদা-কালো ক্লাবের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।