তৃণমূলে ভাঙন আর আলোড়নের মাঝেই বড় পদক্ষেপ! ঘাসফুল নিয়ে দলের অন্দরের মনোভাব বুঝতে হঠাৎ তলব কংগ্রেসের

রাজ্য রাজনীতিতে যখন একের পর এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটছে, ঠিক তখনই শাসকদলকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান ও কৌশল স্পষ্ট করতে বড় পদক্ষেপ নিল কংগ্রেস। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দলীয় সংগঠনকে চাঙ্গা করতে এবং আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের আগে মূল বিরোধী দলের জায়গা দখল করতে বিশেষ রণকৌশল ঠিক করতে চলেছে প্রদেশ নেতৃত্ব। সেই উদ্দেশ্যেই আগামী মঙ্গলবার বিধানভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে।

জানা গিয়েছে, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নেতৃত্বে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন রাজ্যের ৩২টি সাংগঠনিক জেলার নবনিযুক্ত সভাপতিরা। সাম্প্রতিক সময়ে দলবদলের হাওয়া, আদালতের লড়াই এবং উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তাতে জেলা স্তরের নেতারা ঠিক কী ভাবছেন, তা জানতে চান শীর্ষ নেতৃত্ব। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের নানা রাজনৈতিক অবস্থান ও নাটকীয় ঘটনার পর কংগ্রেসের তৃণমূল স্তরের কর্মীরা কী ধরনের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন, তা মূল্যায়ন করাই এই বৈঠকের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন নিয়েও নিজেদের অনড় অবস্থানের কথা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, সব বাধা বিপত্তি ও আইনি লড়াই সত্ত্বেও নন্দীগ্রামের উপনির্বাচন থেকে একচুলও পিছু হঠবে না কংগ্রেস। দলের প্রার্থী মিলন প্রধান বিধানসভা উপনির্বাচনে লড়বেনই। প্রয়োজনে হাজার হাজার সমর্থককে মাঠে নামিয়ে লড়াই তীব্র করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। সব মিলিয়ে পৌরসভা ভোটের আগে জেলা সভাপতিদের নিয়ে এই মেগা বৈঠক যে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।