ছাত্রমৃত্যুর জেরে উত্তাল আইআইটি বম্বে! দীর্ঘ বিক্ষোভের মুখে পড়ে ১৮ দফা দাবিপত্রে সই ডিরেক্টরের

আইআইটি বম্বেতে বড় মোড়! ছাত্রমৃত্যুর উত্তেজনার মাঝে পড়ুয়াদের ১৮ দফা দাবিপত্র মেনে নিলেন ডিরেক্টর
পরীক্ষায় নকল করার অভিযোগে এক পড়ুয়ার মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত তিন দিন ধরে উত্তাল হয়ে রয়েছে আইআইটি বম্বে (IIT Bombay) ক্যাম্পাস। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করল প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ আলোচনার পর পড়ুয়াদের পেশ করা ১৮ দফা দাবিপত্রেই সই করেছেন আইআইটি বম্বের ডিরেক্টর অধ্যাপক শিরীষ কেদারে।
গত রবিবার গভীর রাতে ক্যাম্পাসের মূল গেটের কাছে চলা এই বিক্ষোভ এক নতুন মোড় নেয়। মৃত ছাত্রের পরিবার ইতিমধ্যেই প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জাতপাতের বৈষম্য এবং হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ তুলেছে। মৃত ছাত্রের বাবা-মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পওয়াই থানার পুলিশ অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লা ও ডিরেক্টর শিরীষ বি কেদারে-সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনে এফআইআর দায়ের করেছে। পুরো ঘটনার তদন্তভার ইতিমধ্যেই মুম্বই ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
পড়ুয়াদের প্রধান দাবি ও শর্তসমূহ:
তদন্ত ও সাসপেনশন: ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুল্লাকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা এবং একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তর্বর্তী ও ১৫ অক্টোবরের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করা।
প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা: লিঙ্কডইন (LinkedIn)-এ প্রকাশিত একটি পোস্টে আংশিক তথ্য দিয়ে মৃত ছাত্রের মানহানি করার অভিযোগ তুলে আইআইটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
ওপেন হাউস ও সময়সীমা: আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ডিরেক্টর ও সংশ্লিষ্ট ডিনদের নিয়ে ওপেন হাউস আয়োজনের দাবি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি এক মাসের মধ্যে দাবিগুলি বাস্তবায়িত না হলে ডিরেক্টর ও ডিনদের পদত্যাগের হুশিয়ারিও দিয়েছেন পড়ুয়ারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অন্যতম সেরা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রমৃত্যু ও পরবর্তী আইনি লড়াইয়ের জেরে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। ডিরেক্টর সমস্ত দাবিতে সই করলেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে প্রশাসন কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।