১ অক্টোবর থেকে বন্ধ হয়ে যাবে রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি? বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচতে আজই সেরে নিন এই কাজ!

১ অক্টোবর থেকে রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি পেতে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বিশেষ নিয়ম! আজই জেনে নিন কী করতে হবে

রান্নার গ্যাসের (LPG Gas) ভর্তুকির টাকা পেতে হলে আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যে গ্রাহকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক করল কেন্দ্র সরকার। সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের ভর্তুকি ও নিরবচ্ছিন্ন সিলিন্ডার বুকিং চালু রাখতে বায়োমেট্রিক আধার যাচাইকরণ বা ই-কেওয়াইসি (e-KYC) করা আবশ্যিক করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে বড় সমস্যায় পড়তে পারেন সাধারণ গ্রাহকরা।

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভর্তুকিযুক্ত গার্হস্থ্য এলপিজি রিফিলের জন্য এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ২৭.৪৩ কোটি গ্রাহক অর্থাৎ প্রায় ৮৯.৯ শতাংশ মানুষ এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করে ফেলেছেন। যাঁদের ইতিমধ্যেই ই-কেওয়াইসি করা রয়েছে, তাঁদের নতুন করে আর কিছু করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু যারা এখনও এই কাজ করেননি, তাঁদের দ্রুত তা সেরে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই নতুন নিয়ম? সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভর্তুকিযুক্ত সিলিন্ডারের অপব্যবহার রোধ করা, সঠিক ও প্রকৃত গ্রাহকের অধিকার সুনিশ্চিত করা, নকল বা বেনিয়মি সংযোগগুলি বাতিল করা এবং ভর্তুকি বিতরণ ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে যেকোনো সহায়তার জন্য গ্রাহকরা সরকারি টোল-ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর ১৮০০ ২৩৩৩ ৫৫৫-এ যোগাযোগ করতে পারেন।

ঘরে বসে কীভাবে করবেন e-KYC?

যাঁরা ডিজিটাল মাধ্যমে অভ্যস্ত, তাঁরা খুব সহজেই নিজের স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন:

  • সংশ্লিষ্ট গ্যাস কোম্পানি যেমন—ইন্ডিয়ান অয়েল, এইচপি (HP) বা ভারত গ্যাসের অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন।

  • ফোনে অতিরিক্তভাবে ‘আধার ফেসআরডি’ (Aadhaar FaceRD) অ্যাপটি ইনস্টল করে রাখুন।

  • নিজের রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর বা এলপিজি আইডি দিয়ে অ্যাপে লগ ইন করুন।

  • এরপর ই-কেওয়াইসি বা আধার যাচাইকরণের অপশনটি সিলেক্ট করে প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিন।

  • ‘আধার ফেসআরডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিজের মুখ বা ফেস অথেন্টিকেশন (Face Authentication) প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে সাবমিট করলেই কাজটি হয়ে যাবে।

অন্যদিকে, যাঁদের স্মার্টফোন নেই বা ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় সমস্যা রয়েছে, তাঁরা সরাসরি নিজের নিকটবর্তী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আইরিস স্ক্যানের মাধ্যমে খুব সহজেই এই বায়োমেট্রিক যাচাইকরণ সম্পন্ন করতে পারবেন। রান্নার গ্যাসের ভর্তুকির টাকা নির্বিঘ্নে পেতে ১ অক্টোবরের আগেই এই জরুরি কাজ সেরে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।