পূজোর মাসখানেক আগেই উত্তর কলকাতায় উথালপাথাল মাতামাতি! হরকুটির রায়-ব্যানার্জি বাড়িতে ঠিক কী ঘটল?

দেবীপক্ষের এখনও কিছুদিন বাকি, কিন্তু উৎসবমুখর তিলোত্তমা যেন আর অপেক্ষা করতে রাজি নয়! শারদোৎসবের ঠিক একমাস আগেই ঢাকের বাদ্যি আর ধুনুচির সুবাসে মেতে উঠল উত্তর কলকাতা। শনিবার বিকেলে শোভাবাজারের বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী হরকুটির রায়-ব্যানার্জি বাড়িতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এক অভিনব প্রি-পুজো আয়োজন— “ধুনুচির ছন্দে আগমনী”। ঐতিহ্য, ইতিহাস আর নতুন প্রজন্মের প্রাণের স্পন্দনে শনিবারের বিকেলটি হয়ে উঠেছিল খাঁটি বাঙালিয়ানার মেলবন্ধন।

দক্ষিণ কলকাতা, হাওড়া, হুগলি থেকে শুরু করে শহরের দূর-দূরান্তের তরুণ-তরুণী ও যুগলেরা ভিড় জমিয়েছিলেন এই রাজকীয় বনেদি বাড়িতে। প্রেম, আড্ডা, ছবি তোলার ধুম আর ঢাকের তালে ধুনুচি নাচের উন্মাদনায় মাতিয়ে রেখেছিল পুরো প্রাঙ্গণ।

ধুনুচির ধোঁয়া, ঢাকের বোল ও জেন-জিদের প্রেম

৩০০ বছরের পুরনো বাড়ির উঠোনে কাশার শব্দ, শঙ্খধ্বনি আর ধুনুচির ধোঁয়ায় মেতে উঠেছিল উপস্থিত সকলেই। ঢাকের তালে কাঁধে হাত রেখে প্রেমিক-প্রেমিকাদের ফটোসেশন থেকে শুরু করে ফ্রেন্ডস গ্রুপের আড্ডা— ছবিটা ছিল উৎসবের পুরোপুরি রঙিন।

এক তরুণীর কথায়, “এখনও সিঙ্গেল আছি, বয়ফ্রেন্ড হয়নি। কিন্তু বন্ধুদের সঙ্গে নাচ গান করে পুরো পুজোর ফ্লেভার নিচ্ছি।” আবার এক তরুণ সহাস্যে জানান, “প্রতিদিনের লড়াইয়ের মাঝে প্রেম যেমন বারবার ফিরে আসে, তেমনই কলকাতা ফিরে আসে তার চেনা পুজোয়।”

বিষয়বিবরণ
অনুষ্ঠানের নামধুনুচির ছন্দে আগমনী (প্রি-পুজো সেলিব্রেশন)
স্থানহরকুটির রায়-ব্যানার্জি বাড়ি, উত্তর কলকাতা
ঐতিহ্য৩৩৪ তম বর্ষে পদার্পণকারী বনেদি পুজো
প্রধান আকর্ষণঢাকের তালে ধুনুচি নাচ, কাঁসা, শাঁখ ও উলুধ্বনি

“জেন-জিদের মাধ্যমেই সংস্কৃতি এগিয়ে যাবে”: ডঃ অর্চিস্মান রায়-ব্যানার্জি

ঐতিহ্যবাহী রায়-ব্যানার্জি পরিবারের ১২তম পুরুষ ডঃ অর্চিস্মান রায়-ব্যানার্জি এই অভিনব উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, “বাংলায় এই ধরনের আয়োজন প্রথম। দুর্গাপুজো আমাদের ঐতিহ্য এবং ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক হেরিটেজ স্ট্যাটাস পাওয়ার পর এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে। আমরা চাই তরুণ প্রজন্ম বা ‘জেন-জি’ আমাদের এই বিশাল প্রাচীন সংস্কৃতিকে নিজের মতো করে লালন করুক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিক।”

তিনি আরও জানান, তাঁদের পরিবারের দুর্গোৎসব এবার ৩৩৪তম বর্ষে পা রাখতে চলেছে। মহাষ্টমীতে মা মহিষাসুরমর্দিনীর বধের যে শক্তি রূপের আরাধনা করা হয়, তার আগেই ধুনুচির সুবাস ও শঙ্খধ্বনিতে দেবীশক্তিকে সবার মনে জাগ্রত করাই ছিল এই বিশেষ উৎসবের মূল লক্ষ্য।