মগরাহাটে অস্ত্রসহ গ্রেফতার দুই তৃণমূল নেতা! ৬ বছর আগের সেই চাঞ্চল্যকর নাড্ডা কাণ্ডে এল বড় মোড়

খুনের চেষ্টার অভিযোগে দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করতে গিয়ে বড়সড় সাফল্যের দেখা পেল পুলিশ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম থেকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধৃত ওই দুই নেতাকে জেরা করতেই আচমকা সামনে এল ৬ বছর আগের একটি পুরনো ও বহুচর্চিত ঘটনা। ২০২০ সালে ডায়মন্ড হারবারে তৎকালীন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় এই দুই নেতার সরাসরি যোগ রয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে পুলিশ।

কীভাবে ফাঁদে পড়ল অভিযুক্তরা?

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি পদ্মপুকুর এলাকার এক বাসিন্দা বিধানসভা নির্বাচনের আগের একটি ঘটনায় খুনের চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন। আতঙ্কের কারণে সেসময় পুলিশে যাওয়ার সাহস না পেলেও, ভোট মিটতেই তিনি অভিযোগ জানান। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমেই পুলিশের নজরে আসে রিপন শেখ ও সঞ্জীব মণ্ডল নামের দুই তৃণমূল নেতা।

এরপর মগরাহাট থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের কাছ থেকে বন্দুক এবং কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, ধৃতদের মধ্যে সঞ্জীব স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী। এলাকায় বাইক বাহিনী নিয়ে দাপট দেখানো এবং বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ডায়মন্ড হারবার পুলিশ সুপার চন্দ্রশেখর বর্ধন জানিয়েছেন যে, এই ঘটনার তদন্ত করতে গিয়েই ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বরের নাড্ডার কনভয়ে হামলার বিষয়টি সামনে এসেছে।

পুরনো সেই ঘটনার ফের তদন্ত

প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডায়মন্ড হারবারের শিরাকোল ও ফলতার দোস্তিপুর এলাকায় জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় এই ঘটনায় ব্যাপক রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছিল এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেই মামলায় আর বিশেষ কোনও অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এবার মগরাহাটের দুই নেতা অস্ত্রসহ গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, নাড্ডার কনভয়ে হামলার পেছনেও এদের হাত ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জোরালো প্রমাণ পাওয়ার পর থেকেই পুরনো সেই মামলাটি নতুন করে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে পুলিশ। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করে এই ঘটনার নেপথ্য অন্য কার কার যোগ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।