“থ্রি ইডিয়টস”-এর রাজু এবার টলিউডে! দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে দুই সুন্দরীকে নিয়ে প্রেম করছেন শরমন জোশি

দার্জিলিংয়ের কুয়াশায় প্রেমের আবহাওয়া! প্রথম বাংলা ছবির কাজে শৈলশহরে ‘থ্রি ইডিয়টস’ খ্যাত শরমন
পাহাড়ে আবারও ফিরল লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনের চেনা ব্যস্ততা। তবে এবার পর্যটকদের নজর কেড়েছেন বলিউডের এক অত্যন্ত জনপ্রিয় চেহারা। ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ‘রাজু রাস্তোগি’ অর্থাৎ খ্যাতনামা অভিনেতা শরমন জোশি বর্তমানে ব্যস্ত তাঁর জীবনের প্রথম বাংলা সিনেমার শুটিংয়ে। আর এই বিশেষ কাজের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন রূপসী দার্জিলিংকে, যা বহু দশক ধরেই ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম পছন্দের শুটিং স্পট হিসেবে খ্যাত।
এম এন রাজ পরিচালিত ‘ভালোবাসার মরশুম’ সিনেমার মাধ্যমে বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে পদার্পণ করছেন শরমন।
দুই বাংলার মেলবন্ধন: সঙ্গে সুস্মিতা ও তানজিন তিশা
এই রোমান্টিক চলচ্চিত্রে শরমন জোশির বিপরীতে নজর কাড়বেন দুই তারকা। টলিউডের উদীয়মান অভিনেত্রী সুস্মিতা চট্টোপাধ্যায় এবং বাংলাদেশ বিনোদন জগতের জনপ্রিয় মুখ তানজিন তিশার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করছেন এই বলিউড তারকা। ছবির বড় একটি অংশের শুটিং দার্জিলিংয়ের মনোরম পাহাড়ি পরিবেশে শেষ হওয়ার পর পরবর্তী পর্বের কাজের জন্য পুরো টিম পাড়ি দেবে ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদে।
সিনেমার পর্দায় দার্জিলিং: ফিরে দেখা রঙিন ইতিহাস
পাহাড়ের কোল, কুয়াশাচ্ছন্ন উপত্যকা, এঁকেবেঁকে যাওয়া রাস্তা আর ঐতিহ্যবাহী টয়ট্রেন—ভারতীয় সিনেমায় দার্জিলিং শুধু একটি ব্যাকড্রপ নয়, বরং নিজ গুণে এক অমলিন চরিত্র হিসেবে উঠে এসেছে বারবার।
সত্যজিতের কাঞ্চনজঙ্ঘা থেকে আরাধনা: ১৯৬২ সালে সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’ ছবির মূল গল্প গড়ে উঠেছিল দার্জিলিং কেন্দ্রিক। এর কয়েক বছর পরই রাজেশ খান্না ও শর্মিলা ঠাকুরের ‘আরাধনা’ ছবির কালজয়ী গান ‘মেরে স্বপ্নোঁ কি রানি’ টয়ট্রেনকে উপহার দেয় এক অমর রোমান্টিক মাত্রা।
বলিউডের প্রিয় গন্তব্য: শাহরুখ খানের ‘রাজু বন গয়া জেন্টলম্যান’ ও ‘ম্যায় হু না’ থেকে শুরু করে অনুরাগ বসুর ‘বরফি!’ ও ‘জগ্গা জাসুস’—দার্জিলিংয়ের চকবাজার, ভূটিয়া বস্তি আর সেন্ট পলস স্কুল বলিউডকে বারবার টানটান প্রেমের গল্প বানাতে সাহায্য করেছে।
২৫টিরও বেশি হিট ছবির সাক্ষী দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে
কেবল হিন্দি বা বাংলা নয়; নেপালি, তামিল ও তেলুগু প্রজেক্টেও দার্জিলিং সমান জনপ্রিয়। ‘সাগিনা মাহাতো’, ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আইয়ার’, ‘ভায়া দার্জিলিং’ থেকে শুরু করে রজনীকান্তের মেগা হিট ছবি ‘পেট্টা’—সবখানেই এই পাহাড়ি শহরের অনন্য উপস্থিতি দেখা গেছে।
রেলওয়ের পরিসংখ্যান বলছে, দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত ঘুম স্টেশন, বাতাশিয়া লুপ ও টয়ট্রেন রুটে এখন পর্যন্ত ২৫টিরও বেশি বড় বাজেটের বলিউড সিনেমার শুট হয়েছে। শরমন জোশির এই নতুন যাত্রা শৈলশহরের সেই পুরোনো রোমাঞ্চ ও সিনেমাটিক ঐতিহ্যকে আরও একবার রঙিন করে তুলল।