“উন্নত দেশগুলো নির্গমন করছে ছ’গুণ বেশি!” আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিবেশ দূষণ নিয়ে মোদির চরম হুঙ্কার

“ধনী দেশগুলোর নির্গমন ৬ গুণ বেশি, দায় কেন ভারতের?” বিশ্বমঞ্চে পরিবেশ দূষণ নিয়ে কড়া জবাব প্রধানমন্ত্রীর
আন্তর্জাতিক মঞ্চে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ নিয়ে পশ্চিমা উন্নত দেশগুলোর দ্বৈত নীতিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কার্বন নির্গমনের ঐতিহাসিক দায় অন্যায়ভাবে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্ট জানান, ভারতের মাথাপিছু কার্বন নির্গমন বিশ্ব গড়ের অর্ধেকেরও কম। যেখানে উন্নত দেশগুলোতে এই নির্গমনের মাত্রা ভারতের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি।
নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল (NGT) আয়োজিত “দ্য ফিউচার অফ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট ডায়নামিক্স” শীর্ষক দু’দিনের আন্তর্জাতিক সম্মেলনের শুভ সূচনা করে এই বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। এই হাই-প্রোফাইল সম্মেলনে ১৭টি দেশের বিচারবিভাগীয় প্রতিনিধি, সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের বিচারপতি এবং শীর্ষস্থানীয় পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।
উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষা একসাথেই সম্ভব
প্রধানমন্ত্রী মোদি তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন, শিল্প উন্নয়ন এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব দুটি যে পাশাপাশি চলতে পারে, ভারত তা বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করে দেখিয়েছে। ঐতিহাসিক তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, ভারতের বিশাল জনসংখ্যা সত্ত্বেও মাথাপিছু CO₂ নির্গমনের পরিমাণ অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত।
তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ভারতের মাথাপিছু কার্বন নির্গমনের পরিমাণ গড়ে মাত্র ২.১ টন। এর বিপরীতে আমেরিকার মাথাপিছু নির্গমন ১৩.৪ টন, চীনের ৮.৯ টন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ৫.৪ টন। বিশ্বব্যাপী মোট কার্বন নির্গমনে ভারতে অবদান মাত্র ৮ শতাংশের কাছাকাছি। এই পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার হয়ে যায় যে, বিশ্বজুড়ে পরিবেশ দূষণের আসল কারণ কোনোভাবেই ভারত বা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো নয়।
প্যারিস চুক্তির লক্ষ্যমাত্রায় শীর্ষে ভারত
গত ১২ বছরে অচিরাচরিত ও সৌরশক্তির ব্যবহারে দেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন মোদি। তিনি গর্বের সঙ্গে জানান, জি-২০ (G20) রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভারতই একমাত্র দেশ, যারা প্যারিসে অনুষ্ঠিত COP21 সম্মেলনে দেওয়া পরিবেশ সুরক্ষার সমস্ত প্রতিশ্রুতি নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই সফলভাবে পূরণ করেছে।
অজীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি, সৌরশক্তি উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো এবং কার্বন নির্গমন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে আজ বিশ্বজুড়ে ভারতের মডেল ইতিবাচকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশ সুরক্ষায় ভারতের এই নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা আগামী দিনে বৈশ্বিক জলবায়ু রাজনীতিতে নয়াদিল্লির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।