যে জমিতে একদিন উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি, বিশ্বকর্মা পুজোয় সেই সিঙ্গুরেই উঠল তীব্র শিল্পায়নের স্লোগান!

শিল্পের অপেক্ষায় সিঙ্গুর: শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের সামনে বিশ্বকর্মার আরাধনা, জমিতে কারখানা ফেরানোর জোরালো দাবি কৃষকদের

যেই জমিকে ঘিরে এক সময় উত্তাল হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছিল, সেই সিঙ্গুরের মাটিতেই এ বার শিল্পের দেবতা বিশ্বকর্মার আরাধনা করলেন স্থানীয় কৃষকদের একাংশ। টাটাদের কারখানা সরিয়ে নেওয়ার পর দীর্ঘ দিন কেটে গেলেও বহু জমি এখনও অনাবাদি বা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। আর সেই পরিত্যক্ত জমির সামনেই শিল্প ও কর্মসংস্থানের দাবিতে অভিনব প্রতিবাদ ও পুজোর আয়োজন করল ‘সিঙ্গুর কৃষক শিল্প সমন্বয় পরিষদ’।

শহীদ স্মৃতিস্তম্ভের ঠিক সামনেই সিংহেরভেড়ি এলাকার মহাপ্রভু আশ্রমে এই পুজোর মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে। ঢাকের বাদ্যি আর আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে চলা এই পুজো নিছক কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এর নেপথ্যে রয়েছে তীব্র অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বার্তা। উদ্যোক্তাদের স্পষ্ট দাবি, সিঙ্গুরের মানুষ আর আগের মতো পড়ে থাকা জমিতে চাষ করতে চান না; তাঁরা চান এখানে স্থায়ী কারখানা গড়ে উঠুক, যাতে এলাকার ছেলেমেয়েরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পান।

কী বলছেন স্থানীয় কৃষকরা?

ইচ্ছুক কৃষক স্নেহাশিস পালের দাবি, তাঁদের সাড়ে চার বিঘা জমি মূলত ডোবা প্রকৃতির ছিল, যা চাষের জন্য বিশেষ উপযুক্ত ছিল না। কারখানার জন্য সেই জমি দিতে তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন রাজনৈতিক আন্দোলনের জেরে প্রায় নব্বই শতাংশ তৈরি হওয়া প্রকল্প ভেস্তে যায় এবং জমিগুলি আজ কার্যত পরিত্যক্ত।

আরেক কৃষক শক্তিপদ মুখোপাধ্যায়ের মতে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতা বদলাচ্ছে। আজ ইচ্ছুক ও অনিচ্ছুক— দুই পক্ষই চাইছে সিঙ্গুরে একটি কারখানা হোক। উৎপাদিত ফসলের সঠিক দাম না মেলায় কৃষকদের যে দুরবস্থা তৈরি হয়েছে, তা থেকেও মুক্তির পথ হিসেবে তাঁরা শিল্পায়নকেই একমাত্র সমাধান বলে মনে করছেন। অপর কৃষক ক্ষুদিরাম মণ্ডলের ক্ষোভ, তাঁদের জমি আজ উলুবনে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে কেন্দ্র ও রাজ্য— দুই সরকারের কাছেই শিল্প ফেরানোর আকুল আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।

স্থানীয় বিধায়কের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় বিধায়ক অরূপ কুমার দাস জানিয়েছেন, সরকার গঠনের আগের সংকল্পপত্রেও সিঙ্গুরে শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘদিনের অব্যবহারে জমির একটি বড় অংশ আজ ইট, পাথর ও বালিতে ভরে ভগ্নপ্রায় অবস্থায় রয়েছে। ফলে সেই জমিতে পুনরায় কৃষিকাজ চালানো কঠিন। কৃষকরা যে চাইছেন সিঙ্গুর আবার মানচিত্রে পুনরুজ্জীবিত হোক এবং সরকার যেন সেই আশা পূরণ করে, বিশ্বকর্মা পুজোর মাধ্যমে সেই বার্তাই পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।